শুধু নামের মিলে জামসুর কারাবাস, ৩৩ দিন পর মুক্তি

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

শুধু নামের মিলে জামসুর কারাবাস, ৩৩ দিন পর মুক্তি

আদালত প্রতিবেদক ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

শুধু নামের মিলে জামসুর কারাবাস, ৩৩ দিন পর মুক্তি

আসামি না হয়েও শুধু নামের মিলে ও পুলিশের ভুলে গ্রেফতার হয়ে ৩৩ দিন কারাগারে থাকার পর মো. জামসু মিয়াকে (৩৩) মুক্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৮ আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

মো. জামসু কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার উদিয়ারপাড়ার (স্কুলপাড়া) সিরাজুল হকের ছেলে।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন পুলিশ প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং মামলার বাদীর বক্তব্য নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত আদেশ দেয়ার পর আদালতে উপস্থিত জামসু মিয়ার ছেলে মো. তুষার মিয়া এবং দুলাভাই কাঞ্চন মিয়া বলেন, জামসু মিয়াকে গত ৭ আগস্ট রাতে পুলিশ ঘরে ঢুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন সাবেক চেয়ারম্যান ও এক আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে আমরা থানায় যাই। সেখানে জামসু মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় কোনো মামলা নেই বললেও তারা যাচাই-বাছাই না করেই আদালতে যেতে বলে।

আদালত জামিন দেয়ার পর ভুল আসামি জামসু মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এই মর্মে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ জামানসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অপর ৪ পুলিশ সদস্য হলেন, পরোয়ানা তামিলকারী এসআই শামছুল হাবীব, এসআই ফারুক আহমেদ, তিন এএসআই আব্দুল হালিম, উজ্জ্বল ও আজিজুল।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ভুল আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখ করে মো. জামসু মিয়ার মুক্তির আদেশ প্রার্থনা করেন। ওইদিন একই আদালত গ্রেফতারকৃত জামসু মিয়া এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি একই ব্যক্তি কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ওসি মোহাম্মাদ মোর্শেদ জামান আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মূল আসামি মো. জামসু মিয়া (সাগর), বাবা সিরাজের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা পরোয়ানা পাওয়ার পর তা তামিলের জন্য এসআই শাসছুল হাবীবের নামে হাওলা করা হয়। গত ৮ আগস্ট এসআই ফারুক আহমেদ, তিন এএসআই আব্দুল হালিম, উজ্জ্বল ও আজিজুল সোর্সের দেয়া তথ্য মতে আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। তবে গ্রেফতারকৃত জামসু মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে কোনো মামলা নেই বলে জানায়।

তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে গ্রেফতারকৃত জামসু মিয়াকে মুক্তির প্রার্থনা করেন।

সোমবার শুনানিকালে আদালতে মামলার বাদী মাহুরা খাতুন উপস্থিত হন। তিনিও গ্রেফতারকৃত আসামি তার স্বামী নন বলে আদালতকে জানান।

অন্যদিকে আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ৩৩ দিন কারাগারে থাকা জামসু মিয়ার মুক্তি এবং দায়িত্বে অববেহলার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন।

এদিন মামলার বাদী মানহুরা বলেন, তার স্বামী জামসু মিয়া সাগরের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তিনি মামলা করেন। মামলার পর একবার জামিন নিয়ে সে ২০১৬ সালে মরিশাস পালিয়ে যায়। এখনো সে ওখানেই আছে।  

এমআই/এইচআর

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও