জাহালমকাণ্ড: দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

জাহালমকাণ্ড: দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

হাইকোর্ট প্রতিবেদক ৯:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

জাহালমকাণ্ড: দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আসামি না হয়েও পাটকলকর্মী জাহালমের কারাভোগের ঘটনায় দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেওয়া ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘অস্পষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট।

আগামী বুধবার আবারও প্রতিবেদন দিতে দুদকের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে দুদকের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান আর সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শেখ মো. জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

খুরশীদ আলম খান আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, হাইকোর্টের আদেশে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সে অনুযায়ী তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

দুদকের আইনজীবী আদালতকে বলেন, সোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অর্থ আত্মসতের অভিযোগে যে ৩৩ মামলায় জাহালমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল, তার মধ্যে ৬টিতে অধিকতর তদন্ত চলছে। বাকি ২৭টি মামলায় অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রায় ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এরপর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাও তার নয়।

কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

পরে বিচারিক আদালতেও জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেনি।

তিন বছর ধরে জাহালমের কারাভোগের খবর গণমাধ্যমে এলে হাইকোর্ট ২৮ জানুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন।

কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না, তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান জাহালম। গত ১১ জুলাই আদালতে দাখিল করা আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে দুদক জানায়, তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে আসামি না হয়েও জাহালমকে কারাভোগ করতে হয়েছে।

দুদকের ওই ৩৩ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সেলিনা আখতার, মাসুদুর রহমান, সিলভিয়া ফেরদৌস, মেফতাহুল জান্নাত, দেবব্রত মণ্ডল, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, শেখ মেসবাহ উদ্দিন, সাইদুজ্জামান, রাফী মো. নাজমুস সাদাত ও রফিকুল ইসলাম। এসব মামলার বাদী এবং তদন্তের তদারক কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল্লাহ আল জাহিদ।

ওএস/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও