হাইকোর্টেও মিন্নির জামিন হল না

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

হাইকোর্টেও মিন্নির জামিন হল না

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

হাইকোর্টেও মিন্নির জামিন হল না

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন হাইকোর্টেও হয়নি।

মিন্নির পক্ষে করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

আংশিক শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আবেদন ফিরিয়ে নেন।

এর আগে ৬ আগস্ট জামিন আবেদন শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

ওইদিন আবেদনকারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে বেশি সময় লাগবে; তাই সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার শুনানি করবেন।

এদিন শুনানির শুরুতে জেড আই খান পান্না জামিন দেওয়ার পক্ষে যুক্তিগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি শুরু করেন।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চান, হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নির দেওয়া জবানবন্দির কপি আসামিপক্ষের হাতে আছে কি না।

জেড আই খান পান্না তখন বলেন, জবানবন্দির কপি তাদের হাতে নেই, তাদের তা দেওয়া হয়নি।

বিচারক তখন বলেন, আপনারা জবানবন্দির কপি নিয়ে আসেন, আমরা জামিন প্রশ্নে রুল দেব।

মিন্নির আইনজীবী এ সময় বলেন, আমরা রুল চাই না, জামিন চাই।

কিন্তু আদালত তাকে জানিয়ে দেয়, জবানবন্দির কপি দাখিল না করলে জামিন হবে না।

জেড আই খান পান্না তখন আবেদন ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি।

সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এরপর ১৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

গত ২২ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে ওইদিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর ৩০ জুলাই ফের জামিন আবেদন করেন মিন্নি। এ আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তার আইনজীবীরা।

এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তবে বরগুনা সরকারি কলেজের এই স্নাতকের ছাত্রী ইতোমধ্যে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে।

তার বাবার অভিযোগ, নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিন্নিকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে’ পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তার দাবি।

ওএস/এসবি

আরও পড়ুন...
জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে মিন্নির আবেদন
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও