রিফাত হত্যার তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রিফাত হত্যার তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

রিফাত হত্যার তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার, রিমান্ড, জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ আজ বৃহস্পতিবার আদলতের নজরে আনা হলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা জানান।

প্রকাশিত ওই সংবাদ আদালতে উপস্থাপনকারী আইনজীবী ফারুক হোসেন বলেন, এ মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে টর্চারিং করে পরে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার পক্ষে কোনো আইনজীবীও দাঁড়াচ্ছে না।

তখন আদালত বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। এটাতে আমরা ইন্টারফেয়ার করতে পারি না।

আইনজীবী তখন বলেন, তদন্ত হবে। কিন্তু সে (মিন্নি) তো সাক্ষী। তাকে রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।

বিচারক তখন বলেন, সে তো এখন গ্রেফতার। পুলিশ বলছে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এখন আপনার কিছু করার থাকলে ফৌজদারি নিয়ম মেনে করুন। প্রপার চ্যানেলে আসুন। আমরা তদন্তে ইন্টারফেয়ার করতে পারি না। 

পরে আইনজীবী ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত পাঁচ আসামিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। সেখানে মামলার এক নম্বর সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কারণে মামলাটি অন্যদিকে চলে যেতে পারে। এ কারণে আমি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে বরগুনার পুলিশ।

গত ২৬ জুন প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। ওইদিন বিকেলে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ বুধবার পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রিফাতের বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে মিন্নির মদদ রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এরপর মঙ্গলবার সকালে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার দেখানোর কথা জানান পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

বুধবার মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বরগুনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে বলেছিলেন, দুলাল শরীফ ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় পড়ে তাকে জড়িয়ে বানোয়াট কথা বলছেন।

রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার দেখিয়েছে, তা নিয়ে বুধবার রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়। এর পেছনে প্রভাবশালী কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন একজন সংসদ সদস্য।

বুধবার রিমান্ড শুনানির সময় মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় তাকেই কথা বলার সুযোগ দেন বিচারক।

মিন্নি আদালতে বলেন, আমার স্বামী রিফাত শরীফ। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। হত্যাকাণ্ডে আমি জড়িত নই। এ মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।

ওএস/এসবি

আরও পড়ুন...
স্বামী হত্যায় জড়িতের কথা স্বীকার মিন্নির: এসপি মারুফ
রিফাত হত্যায় রিশান ফরাজীও গ্রেফতার

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও