মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৯

মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা পৃথক দুই মানহানির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দুটি মামলাই জামিনযোগ্য। কিন্তু নিম্ন আদালত জামিন না দেওয়ায় আমরা হাইকোর্টে এসেছিলাম। হাইকোর্ট দুই মামলায় ছয় মাস করে জামিন দিয়েছেন।

তবে কারাবন্দী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় জামিন না পাওয়ায় এখনই তার মুক্তি হচ্ছে না বলে বিএনপির এই নেতা জানান।

এর আগে দুই মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর সোমবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।

খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে- এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ২১ অক্টোবর জেননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে যে মানহানির মামলা হয়, তার বাদীও এ বি সিদ্দিকী।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ খালেদাকে গ্রেফতারে জারি করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

ওএস/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও