ভাবলেশহীন ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ভাবলেশহীন ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম

প্রীতম সাহা সুদীপ ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

ভাবলেশহীন ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম

২০ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হওয়া ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে একেবারেই ভাবলেশহীন ছিলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। কড়া পুলিশি পাহারায় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেমকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। হাল্কা জলপাই রঙের একটি টি-শার্ট, নরমাল প্যান্ট ও স্যান্ডেল পরিহিত মোয়াজ্জেমের চোখে ছিল কালো সানগ্লাস। টি-শার্টের বুকে ঝোলানো ছিল আরেকটি স্বচ্ছ কাঁচের চশমা।

মাথা নিচু করে, মুখ ঢেকে এজলাসে প্রবেশ করেন সাবেক এই ওসি।

এজলাস কক্ষে প্রবেশের পর নিজের চোখ থেকে সানগ্লাসটি খুলে স্বচ্ছ কাঁচের চশমা পরেন। পরে কমপক্ষে ২০ জন পুলিশ সদস্যের বেষ্টনীতে তিনি এজলাস কক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তাকে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেও দেখা গেছে।

শুনানিতে ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের বিরোধীতা করে মামলার বাদী সায়েদুল হক সুমন বলেন, মোয়াজ্জেম আইনের রক্ষক ছিলেন, এক সময় তিনি পুলিশ বাহিনীর হয়ে আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করতে পারতেন। অথচ তিনি তা না করে সাধারণ জনগণের মতো ভয় পেয়ে ২০ দিন পলাতক ছিলেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, তিনি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে কেন পালিয়ে বেড়িয়েছেন? আত্মসমর্পণ কেন করলেন না? গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছেন।

অন্যদিকে আসামির পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, আত্মসমর্পণ করতে আসার মতো নিরাপত্তা বা পরিবেশ ছিল না। ওসি মোয়াজ্জেম বের হলেই মিডিয়া ও বিভিন্ন লোকজন তাকে উত্ত্যক্ত করতো। ফলে তিনি জামিন এবং আইনের আশ্রয় নিতে উচ্চ আদালতে গেছেন এবং সেখানেই গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগকে অবজ্ঞা করেন নি।

নুসরাতের যে ভিডিও ছড়িয়েছে তা ওসি মোয়াজ্জেম ছড়ান নি বলেও দাবি করেন আইনজীবী ফারুক। তিনি বলেন, বাদী পক্ষ যাতে মামলা হওয়ার পর তাদের বক্তব্য থেকে সরে না আসেন সেজন্য ভিডিওটি ধারণ করে রেকর্ড হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে সেটি ওসি মোয়াজ্জেম ছড়ান নি। 

এদিকে জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম আদালতকে বলেন, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আইন শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটিয়ে অপরাধ করায় তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক।

আদালত বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন। পরে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামস জগলুল হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ জুন নির্ধারণ করেন আদালত।

এর আগে সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে মোয়াজ্জেমকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। গ্রেফতার পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার দুপুরে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানার পুলিশ।

পিএসএস/এএসটি

আরও পড়ুন...
আদালতের হাজতখানায় মোয়াজ্জেম, ২টায় শুনানি
মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও