কেরানীগঞ্জের ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

কেরানীগঞ্জের ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

আদালত প্রতিবেদক ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

কেরানীগঞ্জের ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

এক মানবাধিকার কর্মীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের  মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ওই মানবাধিকার কর্মী।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকির হোসেন হাওলাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আদালত ভুক্তভোগী ওই নারীর জবানবন্দী গ্রহণ করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ জোবায়ের, ওসি অপারেশন গোলাম সরোয়ার, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আমিন বাশার, মো. ফারুক, হায়দার, মো. ইকবাল, মো. হানিফ, মো. হানিফ মেম্বার, মো. রফিক, মো. শফিক ও মো. বাবুল মধু।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ভিকটিম একজন মানবাধিকার কর্মী। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ তার সহকর্মীদের সাথে দেখা করার জন্য আরশিনগর আমিন মাদবরের সিমেন্টের দোকানে সামনের পৌঁছালে ২০/ ৩০ জন লোক কিছু কর্মরত লোকদের ধাওয়া করে। এরপর বাদী জানতে পারে দৌঁড়ানো লোকজন সোয়ারেজ লাইনের ঠিকাদার আমিন মাদবরের কাজের লোক। পাঁচ লাখ চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাদের মারধর ও দাওয়া শুরু করে আসামিরা। ওই ঘটনা দেখে বাদী পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯ ফোন করে জানালে আসামিরা ওই সময় বাদীকে দেখে ফেলে। এরপর বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চড় থাপ্পার, কিল - ঘুষি, লাথি ও শরীরের বিভিন্ন আঘাতসহ শ্লীলতাহানি করে।

ভিকটিমের গলায় থাকা দেড় ভরি ওজের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় আসামি ইকবাল। এরপর গত ২৪ এপ্রিল বিকাল ৫টায় তার সংস্থার কাজের জন্য মতিঝিল যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ১১টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় ঘাটখরচর প্রাইমারি স্কুলের সামনে আসলে আসামি হায়দার, রফিক, শফিকসহ আরও অজ্ঞাতনামা দুইজন বাদীকে রিকশা থেকে নামিয়ে স্কুলের পিছনের গলিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের কথা প্রকাশ করিলে খুন করে গুম করার কথা বলে হুমকি দেয়।

ওই ঘটনায় সময় বাদী ১ মাস ৫ দিনের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত ২০ এপ্রিল ঘটনার দিন বাদীকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকার মিডফোর্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। চিকিৎসা শেষে কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা না নিয়ে ওসি যোবারের, ওসি (ওপারেশন) গোলাম সারোয়ার ধমক দিয়ে বলেন, এলাকায় গিয়ে সালিশির মাধ্যমে আপোষ করতে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৪ এপ্রিল রাত ১১টায় আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় বাদী। ওই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দুই দিন পর গত ২৭ এপ্রিল আসামিদের তদ্বিরের কারণে হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। বাদী ওই ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর আবার প্রচণ্ড ব্যথা হলে গত ৩ মে আবার মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। সেখানের চিকিৎসক বলে তার পেটের বাচ্চা আঘাতের কারণে নষ্ট হয়েছে জানিয়ে ওষুধ দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বাদী পুলিশকে বিষয়গুলো অবহিত করলে পুলিশ মামলা নিলেও আসামিকে গ্রেফতার করেনি।

আট আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ৩ পুলিশ কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন অভিযোগে নারী শিশু ও পেনাল কোডের অপর ধারায় মামলাটি দায়ের করেন ওই নারী।

এমআই/এসবি