‘নুসরাত হত্যায় অর্থায়নের প্রমাণ মিললে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা’

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘নুসরাত হত্যায় অর্থায়নের প্রমাণ মিললে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৯

‘নুসরাত হত্যায় অর্থায়নের প্রমাণ মিললে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা’

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অবৈধ টাকা অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার দুপুরে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে একথা জানান।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যায় কোনো অবৈধ টাকার লেনদেন হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে সিআইডি জানতে পেরেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে অনেকেই অর্থায়ন করেছে। কেউ কেরোসিন কিনে দিয়েছে, কেউ বোরকা কিনে দিয়েছে, আবার কেউ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অর্থায়ন করেছে। সুতরাং সিআইডি যেহেতু মানিলন্ডারিং দেখে থাকে, এখানে অবৈধ অর্থের ব্যবহার হয়েছে কিনা আমরা তা খতিয়ে দেখছি। 

নজরুল আরো বলেন, আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি, আমাদের একজন এডিশনাল এসপির নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিম কয়েক দিনের মধ্যেই ফেনীতে ঘটনাস্থলে যাবে। তারা অনুসন্ধান করে দেখবে এই ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কারা কোন কোন খাতে অর্থায়ন করেছে। যখন আমাদের অনুসন্ধান পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে তখনই আমরা মামলা করবো। যারা এখানে জড়িত আছে তারা সবাই মানিলন্ডারিং মামলার আসামি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। নুসরাতকে হত্যার জন্য অনেকে পরিকল্পনা করেছে, অনেকে পরামর্শ করেছে। এসব ক্ষেত্রে টাকা পয়সার ইনভেস্ট করা হয়েছে। কিভাবে ঘটনা ঘটাবে, টাকা কে কোথা থেকে দিবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্যই আমরা পেয়েছি। পরবর্তী তদন্তে অর্থায়নকারীদের নাম উঠে আসার পরই আমরা মানিলন্ডারিং আইনে নিয়মিত মামলা করবো।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, মানিলন্ডারিং অ্যাক্ট নামে আমাদের একটি আইন হয়েছে ২০১৫ সালে। এই আইনে বলা হয়েছে কোনো অপরাধ ঘটলে, তার পেছনে বৈধ টাকা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয় সেগুলো সবই মানিলন্ডারিং হবে। নুসরাত হত্যার ক্ষেত্রে দুইটি অভিযোগ উঠেছে, শ্লীলতাহানী ও মার্ডার। এসব ক্ষেত্রে যদি কোনো অবৈধ টাকা ব্যবহার করা হয় তাহলেই এটা মানিলন্ডারিংয়ে চলে যাবে। তাই এই ঘটনায় যারাই অর্থায়ন করুক, আমরা তাদের আইনের আওতায় আনবো।

পিএসএস/এআরই