জাহালমের কারাভোগ: জানতে দুদকের প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

জাহালমের কারাভোগ: জানতে দুদকের প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট

আদালত প্রতিবেদক ৬:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

জাহালমের কারাভোগ: জানতে দুদকের প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট

অপরাধ না করেও আসামি জাহালমের কারাভোগের জন্য কারা দায়ী—জানতে দুদকের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রতিবেদন চান।

এ বিষয়ে আগামী ২ মে শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ মামলার নথি ও দুদকের প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুদকের পক্ষে ছিলেন—খুরশীদ আলম খান। আর জাহালমের পক্ষে ছিলেন—অমিত দাশ গুপ্ত। এ সময় ভাইকে নিয়ে জাহালমও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যে ৩৩ মামলায় জাহালমকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেসব মামলার এফআইআর, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট ও ব্যাংকের নথিপত্র আদালতে দাখিল করতে গত ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এসব নথি ১০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও ওইদিন দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সময়ের আবেদন করেন। হাইকোর্ট তখন বুধবার (আজ) পর্যন্ত সময় দেন।

তিন বছর জেল খাটা জাহালম কেমন আছেন—তা জানতে তাকেও বুধবার আদালতে নিয়ে আসতে আইনজীবী অমিত দাস গুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য উঠলে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথি এখনো আদালতে আসেনি।

এক মাসেও ফাইল না আসায় বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট বেঞ্চ তখন দুদকের আইনজীবীর কাছে এর কারণ জানতে চান। উত্তরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ওই কোর্ট (নিম্ন আদালত) থেকে এখনো ফাইল আসেনি। আমি ওই কোর্টে মেনশন করেছি, আজকে আবার ম্যানশন করব। এরপর খুরশীদ আলম খান নথি দাখিলের জন্য দুই সপ্তাহ সময় চাইলে হাইকের্ট ২ মে পর্যন্ত সময় দেন।

উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। শুনানি নিয়ে আদালত জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন।

একই সঙ্গে নিরীহ জাহালমের গ্রেপ্তারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতিনিধি ও আইনসচিবের প্রতিনিধিকে ৩ ফেব্রুয়ারি সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। 

পরে আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

এমএ

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও