থানায় নুসরাতের ভিডিও: ওসির বিরুদ্ধে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

থানায় নুসরাতের ভিডিও: ওসির বিরুদ্ধে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

থানায় নুসরাতের ভিডিও: ওসির বিরুদ্ধে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি অভিযোগ দিতে আসার পর তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসাম জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

একই সাথে আগামী ৩০ এপ্রিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর ডিআইজিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়।

এর আগে দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আদালতে জবানবন্দি প্রদান কালে বাদী বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়। যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাত অভিযোগ করলে আসামিসহ তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে জেরা করেন৷

ওই জেরার ভিডিও তিনি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পরের দিন গত ১১ এপ্রিল বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ছেড়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন ঘটনায় আর একটাও ঘটেনি। থানার ভিতরে এমন ভিডিও ধারণ করা ও সম্প্রচার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ।

এই ঘটনার পরে ভিকটিম বেঁচে গেলেও, বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে যেতে। গত ১১ এপ্রিল ইউটিউবে এ ভিডিও দেখতে পাই। অশ্লীল কিছু তথ্য ধারণ করে ইউটিউব/সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভিকটিমের মান সম্মানহানি হয়েছে।

মামলার এজাহারে থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চে নুসরাতকে কেরাসিন ঢেলে পুড়িয়া হত্যা করার আগে তাকে থানায় নিয়ে যায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। থানায় নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা করতে থাকে। ওই জেরার সময় ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওই সময় মোয়াজ্জেম হোসেন অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ওই ভিকটিমের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করেছেন।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনুমতি ছাড়া নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে মানহানি করেছেন, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ওই ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা মামলাটি দায়ের করেন। একই সাথে আসামি বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান।

গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

চলতি মাসের ১০ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়।

এমআই/এএসটি

আরও পড়ুন...
নুসরাত হত্যাকাণ্ড: ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও