খালেদাকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

খালেদাকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

খালেদাকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে মানহানি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানার তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য গুলশান থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এ আদেশ দেন।

এদিন মামলাটিতে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিসহ জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

শুনানিতে মাসুদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ করেননি রাজনৈতিকভাবে তাকে হয়রানি করতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। যে মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত তিনি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হবেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সে অভিযোগে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন। বাদী সরকারি সংস্থার কেউ না। তিনি তৃতীয় ব্যক্তি। আমরা আপনার আদালতে এ মামলায় তার জামিন প্রার্থনা করছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জাতীয় অপরাধ করেছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জানান, মামলাটি গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের জন্য ধার্য থাকলেও পরোয়ানা তামিল হয়ে আসে নাই। আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টসহ জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরের দিন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে জামিন শুনানির আদেশ দেন আদালত।

বিষয়টি পরিবর্তন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিবুল চৌধুরী।

এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলার ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর এ বি সিদ্দিকী এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর খালেদা জিয়া বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট (আইইবি) শুভ বিজয়া অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।’

মামলাতে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদও সৃষ্টি করেছে।

মামলাটিতে গত ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে প্রকাশ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণার ভাব সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত আনার অভিপ্রায় ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষাত্মকভাবে ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করেছেন।

এমআই/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও