সংসদের বাইরেও বিরোধী দল হয়: খালেদা জিয়া

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

সংসদের বাইরেও বিরোধী দল হয়: খালেদা জিয়া

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

সংসদের বাইরেও বিরোধী দল হয়: খালেদা জিয়া

কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, বিরোধী দল শুধু সংসদের ভেতরে থাকলেই হয় না, বাইরে থাকলেও হয়। আবার এখন দেখি, সরকারের সঙ্গে থেকেও বিরোধী দল হয়। যারা জনগণের জন্য কথা বলেন, তারাই বিরোধী দল।

রোববার পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো দুর্নীতির মামলার আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের শুনানিকালে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। খবর: ইউনএবি

মামলাটিতে এদিনও আংশিক চার্জ গঠনের শুনানির পর আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছে আদালত।

অন্যদিকে, মামলাটির আরেক আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে একটি আবেদনের শুনানির তারিখ আগামী ১৫ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

এদিন মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর আদালতে উপস্থিত হন।

তিনি মামলার শুনানিরত অবস্থায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। মামলা চলাকালে ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া তাকে চলে যেতে বলেন।

এর আগে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমাও ছিলেন।

তিনি আদালত কক্ষে প্রবেশের তিন মিনিট পর বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথমে আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজের অব্যাহতির আবেদনে শুনানিতে গত ৩ জানুয়ারি ধারাবাহিকতায় এজাহার থেকে পড়া শুরু করেন।

এজাহার পড়ার অংশে নাইকোর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে এবং মন্ত্রী হিসেবে তার মতামত দেয়ার বক্তব্য আসলে তিনি ওই ডকুমেন্ট আদালতের কাছে দেখতে চান। আর ওই ডকুমেন্ট না হলে শুনানি করতে পারবেন না বলে জানান।

ওই সময় বিচারক বলেন, গত তারিখেই আপনার আবেদন দেয়ার কথা। আপনি তো আবেদনই দেননি।

এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, আজ একটি আবেদন দিয়েছি। আদেশ দিলে সার্টিফায়েড কপি দ্রুত পাওয়া যাবে।

বিচারক এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনার (মওদুদ আহমদ) চাহিদামতো তো পাবেন না। মামলায় যা জব্দ আছে, তা পাবেন। তবে ডকুমন্টেগুলো অনেক পৃষ্ঠার, আমরা কোনগুলো ওনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব তা নিশ্চিত নয়। তাই ওনারা চাইলে ডকুমেন্টগুলো দেখতে পারেন।

এরপর বিচারক বলেন, আপনি যেভাবে আবেদন দিয়েছেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রেসক্রাইব ফর্মে আবেদন দেন, আইন অনুযায়ী পেয়ে যাবেন। আর আপনার মনে হয়, ওই ডকুমেন্টগুলোর বাইরেও অনেক বক্তব্য আছে, সেগুলো বলুন।

এরপর মওদুদ আহমদ এজাহারের বাকি অংশ পড়া শেষ করে চার্জশিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরে পড়া শুরু করেন।

তিনি চার্জশিটের বক্তব্য ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করেছিল। আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি। যারা করেছে তারা আজ আসামির বাইরে। বলতে দ্বিধা নেই, আমরা এখন বিরোধী দলে তাই ...।’

মওদুদ আহমদের এই বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইনজীবী রোবহান উদ্দিন তাকে বলেন, ‘আমরা তো এখন বিরোধী দলেও নেই।’ তখন মওদুদ আহমদ বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমরা তো এখন কোথাও নেই।’

ওই সময় হুইল চেয়ারে বসে থাকা খালেদা জিয়া বলে ওঠেন, ‘বিরোধী দল শুধু পার্লামেন্টের ভেতরে থাকলেই হয় না, বাইরে থাকলেও হয়। আবার এখন দেখি, বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে থেকেও হয়। যারা জনগণের জন্য কথা বলেন, তারাই বিরোধী দল। যে অবস্থাতেই থাকুক, বিএনপি সবচাইতে জনপ্রিয় দল।’

তখন দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ঘরেও নেই, বাইরেও নেই, বিএনপি এমন দল।’

এ বক্তব্যের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘অফকোর্স বিএনপি জনপ্রিয় দল।’

এরপর মওদুদ আহমদ আবার চার্জশিট থেকে পড়া শুরু করেন এবং বেলা ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বলেন, ‘আমাকে হাইকোর্টে ৩৬৫ জনের আগাম জামিনের জন্য যেতে হবে। আজ আর পারব না।’ তখন আদালত তাকে যাওয়ার অনুমতি দেন।

এরপর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের গায়েবি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে হবে জানিয়ে আইনজীবী আসাদুজ্জামান শুনানি করতে পারছেন না মর্মে সময় চান।

এরপর আসামি ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে আইনজীবী মো. জাহেদুল ইসলাম কোয়েল অব্যাহতির শুনানিতে বলেন, মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। সেলিম ভুঁইয়া নামে এক আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়। তবে ওই স্বীকারোক্তিতে এমন কোনো বক্তব্য নেই যে তাকে আসামি করা যায়। তাই তিনি অব্যাহতি পাবেন।

এরপর আসামি প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন নিজেই নিজের অব্যাহতির শুনানিতে বলেন, ‘আমার ওপরে সচিবসহ আরও কর্মকর্তারা ছিলেন। একজন সিনিয়র সহকারী সচিব কি ডিসিশন মেকার? আমাকে ডিসিশন মেকার করে দিয়ে আসামি করা হয়েছে। আমার কোনো দোষ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার কারণে আমার পেনশনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি অব্যাহতি চাই।’ এরপর আসামি প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন অসুস্থ উল্লেখ করে তার আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেন।

সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি অব্যাহতির আবেদন করে শুনানি করা ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভুইয়ার আরেক আইনজীবী এদিন নাইকো সংক্রান্তে কোনো টাকা আসামি মামুনকে দেননি বলে শুনানি করে তার অব্যাহতির আবেদন করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এসবি