স্ত্রীকে খুন করে বন্ধুদের নিয়ে লাশ গুম

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

স্ত্রীকে খুন করে বন্ধুদের নিয়ে লাশ গুম

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

স্ত্রীকে খুন করে বন্ধুদের নিয়ে লাশ গুম

পারিবারিক কোন্দলের জেরে গাজীপুরে স্ত্রী আফরোজাকে গলাটিপে হত্যা করেন শাহজাহান মিয়া। পরে স্ত্রীর লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। ঘটনার পর দিন লাশ গুম করতে দুই বন্ধুর সঙ্গে চুক্তি করেন শাহজাহান। এর মধ্যে বন্ধু খোকন মিয়াকে চার হাজার এবং মুকুল মিয়াকে আড়াই হাজার টাকা দেয়ার চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী তিন বন্ধু মিলে খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গভীর রাতে বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে আফরোজার লাশ ফেলে দেন। তবে বন্ধুর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী টাকা আদায়ের পরই নিজেদের চেহারা বদলে ফেলেন খোকন ও মুকুল।

তারা দুইজন ঘটনার সাক্ষী বনে যান। খোকন ও মুকুল স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে গিয়ে বন্ধুর কুকর্মের কথা বলেন। তারা বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শাহজাহানকে তার স্ত্রীর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিতে দেখেছেন।

ঘটনার পর শাহজাহান আত্মগোপনে চলে যান। আর দুই দিন পর স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব মূল আসামি শাহজাহান এবং তার দুই সহযোগী খোকন ও মুকুলকে আটক করে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, ৮ বছর আগে সুতার মিলে কাজ করার সময় শাহজাহান ও আফরোজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার শুরু করলেও তাদের পারিবারিক জীবনে কলহ লেগেই থাকতো। বিভিন্ন সময় স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন শাহজাহান। ২০১৬ সালে আফরোজা কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ফিরে আসেন।

স্ত্রীর কাছে বিদেশে অর্জিত টাকার হিসাব চাইলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। গত ৩০ ডিসেম্বর আফরোজা ভোট দিতে গেলে বাড়ি ফেরার পর কোথায় গিয়েছিল জানতে চেয়ে তাকে মারধর করে শাহজাহান। ৩ জানুয়ারি সকালে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাদের একমাত্র মেয়েকে পাশের ঘরে রেখে স্ত্রী আফরোজাকে গলা টিপে হত্যা করেন শাহজাহান। এরপর খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, এ অবস্থায় সাহায্য করার জন্য বন্ধু খোকন ও মুকুলকে বাসায় ডাকেন শাহজাহান। তিনজন মিলে ওইদিন রাতে বাসার পাশে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন আফরোজার মরদেহ। এ জন্য শাহজাহানের কাছ থেকে খোকন ৪ হাজার এবং মুকুল ২ হাজার ৫০০ টাকা নেন।

টাকা নিয়ে খোকন ও মুকুল ভাবেন, ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তারা ফেঁসে যেতে পারেন। তাই নিজ থেকে স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানান। এরপর মরদেহ উদ্ধার হলে খোকন ও মুকুল হয়ে যান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান সারোয়ার বিন কাশেম।

পিএসএস/আরপি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও