বাংলামোটরে শিশু হত্যার ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাংলামোটরে শিশু হত্যার ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

বাংলামোটরে শিশু হত্যার ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর বাংলামোটরে সাফায়েত নামে দুই বছর বয়সী শিশুকে হত্যার অভিযোগে শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার রাতে শিশুটির মা মালিহা আক্তার বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় পিতা নুরুজ্জামান কাজলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার।

তিনি বলেন, গতরাতে শিশুটির মা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শিশুটির বাবা আটক আছেন। মামলা হওয়ার পর আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।

এর আগে বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার একটি বাসায় সাফায়েত নামে তিন বছরের এক শিশুকে তার বাবা হত্যা করেছেন, এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে এলেও বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কারণ ভেতরে মরদেহের পাশে ধারালো দা হাতে আরেক সন্তানকে বুকে নিয়ে বসেছিলেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল। তিনিই কাউকে বাসায় ঢুকতে দেননি। অন্যদিকে কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের দাবি, শিশুটিকে তার বাবাই খুন করেছে।

অবশেষে ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর সন্তানদের জিম্মি নাটকের অবসান ঘটে। বাবার হাতে নিহত ও জিম্মি থাকা দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশ।

এ সময় পুলিশ এক সন্তানের লাশ এবং আরেক সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। আটক করা হয়েছে ঘাতক বাবাকেও।

নুরুজ্জামান কাজল এর ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল বলেন, কাজলের দুই সন্তান। একজন সাফায়েত, তার বড় আরেকজন আছে সুরায়েত। আমরা সাফায়েতের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। সকালে বাসায় ঢুকতে গিয়েও পারিনি। কাজলকে মাদকাসক্ত দাবি করে উজ্জ্বল বলেন, বাবাই খুন করেছেন সাফায়েতকে। কারণ কাজল মাদকাসক্ত। আর আমরা যখন বাসায় ঢুকতে গেছি, তখন কাজল আমাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসেন। সুরায়েত বাবার কাছেই আছে।

নুরুল হুদা উজ্জ্বল আরও জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান।

উদ্ধার অভিযানকালে র‍্যাব-২ এর একটি টিম অংশ নেন। ওই টিমের এক কর্মকর্তা এসআই শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমি ভেতরে ঢুকে দেখেছি, নুরুজ্জামান কাজল তার ছোট শিশুকে কাফনের কাপড় পরিয়ে টেবিলের ওপর রেখেছেন। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় রামদা নিয়ে বসে আছেন।’

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকেন কাজল। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী চলে গেছেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল।

পিএসএস/এআরই

আরও পড়ুন...
টেবিলে কাফনে ঢাকা সন্তান, অন্যজনকে বুকে ধরে বাবা
যেভাবে বের করে আনা হল মৃত শিশু ও পিতাকে
শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বাবা আটক, মিলল সন্তানের নিথর দেহ