ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন নামঞ্জুর

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন নামঞ্জুর

আদালত প্রতিবেদক ১১:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৮

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন নামঞ্জুর

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সুমনা আক্তার লিলি দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন নাকচ করেছেন আদালত।

সোবাবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ জামিন না মঞ্জুরের আদেশ দেন।

মইনুলের পক্ষে জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

শুনানিতে সানাউল্লাহ বলেন, আসামি যা কিছু বলেছেন মাসুদা ভাট্টিকে, এর মধ্যে সে বিষয়ে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।  কিন্তু এ মামলার বাদী সুমনা আক্তার লিলিকে তো কিছু বলেননি। তাহলে তিনি কিভাবে এ মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, এ মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় অপরাদ হয়েছে। আসামি জামিন পাওয়া আইনগত অধিকার তাই আসামির জামিন পাওয়ার হকদার।

অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও সালমা হাই।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। তবে এদিন ব্যারিস্টার মইনুল ইসলামকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি।

এর আগে গত ০১ নভেম্বর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেন। এই মামলার প্রতিবেদনের জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য আছে।

গত ২৪ অক্টোকর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সদস্য সুমনা আক্তার লিলি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলা নিয়ে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করেন। ওইদিন বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গত ১৬ অক্টোবর ৭১ টেলিভিশনের লাইভ টেলিকনফারেন্সে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির প্রশ্নের জবাবে তাকে ‘চরিত্রহীন’ বলেন। সেখানেই তিনি থেমে থাকেননি। এরপর তিনি গত ১৮ অক্টোবর ইলেকট্রানিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলেছেন, শুধু তিনি চরিত্রহীন বলছেন না, আরো অনেক মানুষ তাকে চরিত্রহীন বলছেন। তার ওই সমস্ত বক্তব্য দেশের সমস্ত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় এবং পত্রিকার অনলাইন ভার্সণে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার ওই মানহানিকর চরিত্রহীন বক্তব্যে শুধু সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির মানহানি ঘটে নাই। একজন নারী হিসেবে বাদিনীরও মানহানি ঘটেছে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ (২) ও ২৯(২) ধারার অপরাধ পড়ে।

উল্লেখ, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলা নিয়ে মানহানির অভিযোগে এর আগে ১০টির বেশি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম মামলা। অপর মামলাগুলোর মধ্যে মাসুদা ভাট্টি নিজে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেছেন। রংপুরে হওয়া একটি মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা সিএমএম আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

এমআই/এআরই