কিশোর হত্যায় প্রেমিকাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

কিশোর হত্যায় প্রেমিকাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আদালত প্রতিবেদক ৭:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০১৮

কিশোর হত্যায় প্রেমিকাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

রাজধানী পুরান ঢাকায় প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে হোলি উৎসব থেকে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্র রনক হত্যা মামলায় প্রেমিকাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জানে আলম মুনশী এ চার্জশিট ঢাকা সিএমএম আদালতে দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- ইয়াছিন আহম্মেদ ইমন (১৭), প্রেমিকা লিজা আক্তার ওরফে মাইসা আলম (১৬), রিয়াজ আলম ফারহান (১৯), আব্দুল ওয়াহিদ (১৩), ওমর ফারুক (১৬), ফাহিম আহম্মেদ এ্যাফ্রো (১৭), আল আমিন ওরফে ফারাবি খান (১৪), বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ওরফে জিসান (১৬), তাহসীন হোসেন বিজয় (১৫), ইয়াছিন ইমন (২০), সজিব মাহমুদ (১৭), আবেদুর রহমান উৎসব (১২), ইয়াছিন আলী (১৭) ও আসিফ।

ওমর ফারুক নামের অপর এক আসামি পলাতক রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারি আবেদন জানিয়েছেন।
চার্জশিটভুক্ত ১৪ জন আসামির মধ্যে ফারহান, ইমন ও আসিফ বাদে ১১ জনই কিশোর।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, গত ১ মার্চ ইমন রনকের প্রেমিকা মাইসার মাধ্যমে তাকে শাখারী বাজার হলি খেলা দেখার নাম করে ডেকে আনে। পরে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসামিরা রনককে গালি-গালাজ, কিলঘুষি ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত জখম করে। এরপরে হাসপাতালে নেয়ার পথে রনক মারা যায়।

তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার মূল নায়ক পরিকল্পনাকারী ইয়াছিন আহম্মেদ ওরফে ইমন। সে মাইসার মাধ্যমে রনককে ডেকে আনে ও ওয়াহিদের মাধ্যমে অন্যান্য বন্ধু-বান্ধব ও ছুরি সংগ্রহ করে।

ঘটনার দিন সকাল ১০টার সময় সূত্রাপুর থানাধীন লক্ষী- বাজার কেএফসির সামনে একত্রিত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর একে একে শাখারী বাজার শনি মন্দিরের সামনে আসে। মাইসার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় রনক হলিতে আসছে। মন্দিরের সামনে ইমনের সাথে রনকের দেখা হলে ইমন তার সাথে কোলাকুলি করে। এরপর ফারহান এ্যাফ্রো রনককে ঘাড় ধরে এক পাশে ডেকে আনে। আল আমিন বলে- এটাই কি রনক? ওয়াহিদ বলে- শালারে মারস না কেন? তাহসীন বলে- হাত থাকতে মুখ দিয়া কী? তখন পরিকল্পনাকারী ইমন বলে- তুই বলছিলি না আমার মতো ১০/১২টা ইমন ডেইলী পয়দা করস। এরপর শুরু হয় মারপিট। প্রথমে এ্যাফ্রো একটা চড় মারে। তারপর উৎসব, সজিব, আসিফ, জিসান একে এক সবাই চড়-থাপ্পক, কিল-ঘুষি মারা শুরু করে।

ফাহান প্রথমে চাকু দিয়ে রনককে কোপ দেয়। ওমরও চাকু দিয়ে কোপ দেয়। এরপর রনক মারাত্মক রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দৌড়ে একজন উকিলের চেম্বারে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে তাকে তারা বের করে একটি চায়ের দোকানের ওপর ফেলে দেয়। চায়ের দোকান তখন বন্ধ ছিল। দোকানটি ভেঙ্গে যায়।

এরপর তারা পালিয়ে গেলে রনকের বন্ধু ফাহিম ও মাসুম রনককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনকতে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মামলায় চার্জশিটে ৪২ জনকে সাক্ষী করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

রনকের এ বছর নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এমআই/এএসটি