‘দুদকের তলবে না এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাচ্ছেন তারা’

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘দুদকের তলবে না এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাচ্ছেন তারা’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

‘দুদকের তলবে না এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাচ্ছেন তারা’

বড়পুকুড়িয়া কয়লা খনির দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের ডাকে যেসব কর্মকর্তা আসছেন না, তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারিয়ে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার কয়লা খনির দুর্নীতি অনুসন্ধানে পেট্রোবাংলার ৭ কর্মকর্তাকে হাজির হতে বলা হয়। দুদকের ডাকে ৭ কর্মকর্তাই হাজির হয়েছিলেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে গত ১৩ আগস্ট খনির যে চার কর্মকর্তাকে হাজির হতে বলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে মাত্র একজন দুদকে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর ১৪ আগস্ট যে চারজনকে হাজির হতে বলা হয়, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অনুপস্থিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, 'আমাদের তদন্ত যারা করছে, তারা যাদের ডেকেছে, তারা আসবে আমরা এটাই তো প্রত্যাশা করি। এখন কেউ যদি না আসে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। না এলে যে মামলা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়।'

তিনি বলেন, 'তদন্ত চলবে এবং আমরা যেটা বলেছি, দ্রুততম সময়ে এই মামলার শেষ পরিণতি আমরা দেখবো। আমরা আমাদের কথা রাখার জন্য চেষ্টা করছি। যিনি আসবেন না এটা তো তারই প্রবলেম। কারণ তিনি তো ডিফেন করবেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যই আমরা ডেকেছি। আমরা সুযোগ দিচ্ছি আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন, যদি তা না করেন, তাহলে আমরা যা ধরে নেয়ার তাই ধরে নেবো। আমাদের কর্তব্য যা আমরা তাই করবো।'

কতদিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, 'মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা বলেছি দ্রুত এটা শেষ করার জন্য। তারা (তদন্ত কর্মকর্তা) দ্রুত এটা শেষ করার চেষ্টা করছেন।'

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুর্নীতি মামলায় দুদকের অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব কয়লার অনুমানিক মূল্য ২৩০ কোটি টাকা।

এর আগে, কয়লা গায়েবের ঘটনা দুর্নীতির অনুসন্ধানে গত ২৩ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শামছুল আলমকে প্রধান করে গঠিত এই তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন— সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম। আর  এই তদন্ত কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দুদকের পরিচালক কাজী শফিক।

পরে কয়লা আত্মসাতের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে দুদক এই মামলার তদন্ত শুরু করে।

টিএটি/এএল/