হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণ : এক বছরে গ্রেফতার ১৪

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণ : এক বছরে গ্রেফতার ১৪

প্রীতম সাহা সুদীপ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৮

হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণ : এক বছরে গ্রেফতার ১৪

পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বিস্ফোরণের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট)। এদিন আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন জঙ্গি সাইফুল ইসলাম। নিহত ওই জঙ্গির ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের মিছিলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে তখন জানিয়েছিল পুলিশ। 

দীর্ঘ ১ বছরে ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের মধ্যে ১০ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এদিকে, গত বছরের ওই জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার ধানমন্ডি ও পান্থপথ এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকার মেসগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। আর হোটেলগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে কক্ষ ভাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ওই ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট সকালে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে জঙ্গি নিহতের ঘটনায় হওয়া মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত ১৪ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, শোক দিবসকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তারপরও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক ব্লকরেইড ও তল্লাশি চলছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, সোমবারও ২ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে আগারগাঁও, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ এলাকায় ব্লকরেইড চালানো হয়েছে। রাজধানীজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল

সরেজমিনে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে গিয়ে দেখা যায় পুরো ভবনটি নতুন করে রঙ করা হয়েছে। জঙ্গি সাইফুলের আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ভবনের তৃতীয় তলায় যে কক্ষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তা পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড আর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো হোটেলে বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা।

হোটেল ম্যানেজার মোহাম্মদ তপু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, গত বছরের ঘটনার পর আমরা নতুন করে সব গুছিয়েছি। ঘটনার পর অনেক দিন আমরা কোনো বোর্ডার পাইনি। অনেকটা সময় লেগেছে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে। তাই এই বছর ১৩ আগস্ট থেকে কক্ষ ভাড়া দেয়া বন্ধ রেখেছি। ১৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত কোনো কক্ষ ভাড়া দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, গত বছর ঘটনার সময় আমি এখানে ছিলাম না। অন্য আরেকজন দায়িত্বে ছিল। তবে এখন পুরো হোটেলের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার ওপরই। তাই পুলিশের নির্দেশনা সবসময় মেনে চলার চেষ্টা করি।

হোটেলের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তপু বলেন, এখন কেউ কক্ষ ভাড়া নিতে এলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা নেয়া হয়। পুরো হোটেলে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সব যাচাই বাছাই করেই কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়, যদি কাউকে সন্দেহজনক মনে হয় তাহলে রুম ভাড়া দেয়া হয় না।

পিএসএস/এএল/