জিয়া অরফানেজ মামলায় জামিন মেলেনি কাজী কামালের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

জিয়া অরফানেজ মামলায় জামিন মেলেনি কাজী কামালের

হাইকোর্ট প্রতিবেদক ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮

print
জিয়া অরফানেজ মামলায় জামিন মেলেনি কাজী কামালের

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন মেলেনি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামালের।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন।

আদেশে জামিন আবেদন আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখেছেন হাইকোর্ট।

এই মামলায় বিচারিক আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কাজী কামালকে।

আদালতে তার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হক।

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।

আদালত থেকে বের হবার পর দুদকের আইনজীবী বলেন, আদালত কাজী কামালের আবেদন স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন ৩১ জুলাই পর্যন্ত। অর্থাৎ জামিন মেলেনি তার।

কারণ হিসেবে আইনজীবী বলেন, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই বেঞ্চেই মামলাটির আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘জামিন আবেদনে কাজী কামালের সামাজিক মর্যাদার কথা তুলে ধরেন তার আইনজীবী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য। একটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তার আবেদন মঞ্জুর করা হোক।’

‘জবাবে বলেছি (দুদক), যারা এতিমের টাকা মেরে দণ্ডিত হয়, তাদের আবার কিসের সামাজিক মর্যাদা? ’

এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের মধ্যে কারাবন্দি তিনজনেরই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বাকী তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালত কারাগারে থাকা তিন আসামির আপিল শুনানি এবং খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে জারি করা রুলের শুনানি একইসঙ্গে নেবেন।

খালেদা জিয়া ও কাজী কামাল ছাড়া আটক অন্যজন হলেন ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

আর আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক তিনজন হলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পান খালেদা জিয়া। পরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করেন কাজী কামাল। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন।

এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

এদিকে খালেদা জিয়া আপিলের পর জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করে। কিন্তু আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন।

এমএ/এএসটি

 
.


আলোচিত সংবাদ