অভিজিৎ হত্যা : গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগেরই সম্পৃক্ততা মেলেনি

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

অভিজিৎ হত্যা : গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগেরই সম্পৃক্ততা মেলেনি

প্রীতম সাহা সুদীপ ২:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

অভিজিৎ হত্যা : গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগেরই সম্পৃক্ততা মেলেনি

ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। এই তিন বছরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতাদের অধিকাংশই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কেবল তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিজিত হত্যাকাণ্ডে মোট ৯জন অংশ নেয়। তদন্তে আনসার আল ইসলামের প্রধান সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত মেজর জিয়াসহ আরো ৫জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। যারা এখনো পলাতক রয়েছেন।

এছাড়া মামলাটি ডিবি তদন্ত করার সময় র্যানব ও ডিবি মিলে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে। সেসময় মুকুল রানা নামে একজন ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। যিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত অনানুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, তদন্তে যেহেতু মেজর জিয়াসহ ৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুয়েকজনকে গ্রেফতার করা গেলে তদন্তকাজ শেষ হবে এবং আদালতে চার্জশিট দিতে পারব।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর শুরু থেকে মামলাটি ডিবি তদন্ত করছিল। সে সময় র্যা ব ও ডিবি মিলে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে। ওই অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মুকুল রানা ওরফে শরীফ রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এরপর প্রায় তিন মাস আগে মামলার তদন্তভার পায় সিটিটিসি। এরপর মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ ও আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। যারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী এবং এ পর্যন্ত তদন্তে গ্রেফতার বাকি সাতজনের এখনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

সিটিটিসির হাতে গ্রেফতার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সিটিটিসি প্রধান আরো বলেন, তিনজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আমরা এ মামলার তদন্তকাজ শেষ করে এনেছি। সনাক্ত হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশের বইমেলায় লেখক অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে কুপিয়ে জখম করেন দুর্বৃত্তরা।

বিএইচ/পিএসএস