যশোর রোডে নিষেধাজ্ঞায় স্বস্তি, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

যশোর রোডে নিষেধাজ্ঞায় স্বস্তি, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

যশোর ব্যুরো ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

print
যশোর রোডে নিষেধাজ্ঞায় স্বস্তি, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

যশোর রোডের ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন  হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এমন খবর প্রকাশের পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সাময়িক স্থগিতাদেশ নয়, স্থায়ী আদেশ চান তারা। আর ছয় মাসের মধ্যে গাছ রেখে বিকল্প উপায়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করার তাগিদ দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, গাছগুলো সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ ও বিকল্প উন্নয়ন চিন্তা করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

গত ৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় তিনজন সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসকসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যশোর রোড (যশোর-বেনাপোল) মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর সচেতন যশোরবাসী প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গাছ কাটার প্রতিবাদে সরগরম হয়ে ওঠেন সচেতন মানুষ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও যশোরে গাছ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট আগামী ছয় মাসের জন্য গাছ কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে স্বস্তি ফিরেছে আন্দোলনকারীদের মাঝে। তবে তাদের দাবি স্থায়ীভাবে গাছ রক্ষা করা হোক।

আন্দোলনকারীদের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ। তিনি বলছিলেন, সচেতন নাগরিকদের আন্দোলনের ফলে আদালত গাছ কাটায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এজন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে ছয় মাসের নয়, স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গাছ সুরক্ষার ব্যবস্থা করলে আরও ভালো হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাস্তা, গাছ ও জলাশয় ধ্বংস করা যাবে না। সেই আইন অনুযায়ী যশোর রোডের গাছ কাটতে পারবে না কেউ। আদালত সেই বিষয়টিই আমলে নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, ভারতে গাছ রেখেই মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তাহলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব নয়। আমরা তো কল্পনাপ্রসূত দাবি করছি না। আমরা চাই- গাছ রেখেই মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হোক।

জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আরএম খায়রুল উমাম বলেন, মহাসড়কের জায়গা যারা দখল করে আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারণ দখলকারীরা সোচ্চার রয়েছে। আর গাছগুলো নীরব আছে। এজন্য গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে সরকারের উচিত বিকল্প চিন্তা করে গাছগুলো রক্ষা করা। মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিস্মারক হিসেবে যশোর রোডের গাছগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে যশোর রোডের নামকরণ পুনরুজ্জীবিত করা হোক।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমরা যেটা করতে পারি, আগামী গাছ লাগানো মৌসুমে আমরা যশোর-বেনাপোল সড়কে যেখানে গাছ নেই, মরে গেছে, সেখানে নতুন করে নির্বাচিত গাছ লাগাবো। বাংলাদেশের এই প্রবেশদ্বারকে আমরা মোহনীয় করে সাজাতে পারি। আর এজন্য সরকারের নির্বোধ আমলা নয়, আমাদের শক্তি হবে সাধারণ মানুষ। তাদের সাথে নিয়ে বহু প্রাচীন রাজপথকে আমরা দুনিয়ার কাছে এক আদর্শ করে তুলে ধরব।

আইআর/এএল

আরো পড়ুন...
যশোর মহাসড়কের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী
যশোর রোডের গাছ কাটতে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা

 
.


আলোচিত সংবাদ