এক বছর ধরে বিকল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

এক বছর ধরে বিকল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন

মো. জামাল হোসেন, খুলনা ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
এক বছর ধরে বিকল হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি দীর্ঘ এক বছর ধরে বিকল রয়েছে। মেশিনটি মেরামতের চিঠি চালাচালিতেই কেটেছে পুরো ২০১৭ সাল। তবে একাধিকবার অবহিত করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হলেও ঠিক কবে নাগাদ মেশিনটি চালু হবে সেটিও বলতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিকল থাকায় সেবা গ্রহীতা এবং দরিদ্র রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ এসব রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের (পরিচালক) অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী এ প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি মেরামতের জন্য তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মেরামত বাবদ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন ওয়ার্কঅডার দিলেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান এ টাকায় করতে পারবে কি-না সেটি ২/১ দিনের মধ্যে জানা যাবে।

হাসপাতালটির ইঞ্জিনিয়ার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, সার্ভিস ডিলার ইউনি হেলথ লিমিডেট সিটি স্ক্যান মেশিনটি মেরামতের জন্য প্রথমে এক কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ’ টাকার কোটেশন দাখিল করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাখিলকৃত কোটেশনটি যাচাই-বাছাইসহ মতামতের জন্য গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেন ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেনেন্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউটিসি)’র চীফ টেশনিক্যাল ম্যানেজার বরাবর। কোনো সাড়া না পেয়ে আবারও ২৭ মার্চ তাগিদ দিলে ১১ মে নিমিউ’র চীফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার দাখিলকৃত এক কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ’ টাকার স্থলে এক কোটি ৩৬ লাখ ৫শ’ টাকায় শর্ত সাপেক্ষে মেশিনটি মেরামতের অনুমতি দেন।

পরবর্তীতে ১৮ মে পুনরায় কোটেশন দাখিল করে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আপত্তি থাকায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় কোটেশন দাখিল করতে বলা হয়। দেড় মাস আগে সার্ভিস ডিলার ইউনি হেলথ লিমিডেট’র প্রতিনিধি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় মেরামতে সম্মতি দেয়। সে মোতাবেক ৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মেরামতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের গড়িমসির কারণেই মেরামত কাজ বিলম্ব হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। পর দিন ১৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৌশলী সরেজমিনে মেশিনটি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে টিউব অকেজো হয়েছে বলে রিপোর্ট দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই দিন মেশিনটি মেরামতের জন্য ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেনেন্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউটিসি), মহাখালী, ঢাকার চীফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার বরাবর চিঠি দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি নিমিউ, ঢাকার প্রকৌশলী সরেজমিনে মেশিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি চেকলিস্ট প্রস্তুত করেন।

পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মনোনীত সার্ভিস ডিলার ইউনি হেলথ লিমিডেট সিটি স্ক্যান মেশিনটি মেরামতের নতুন টিউব পরিবর্তনের জন্য এক কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ’ টাকার কোটেশন দাখিল করে।

শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট শাখার সূত্র জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী এই হাসপাতাল থেকে সিটি স্ক্যান করান। ওষুধ ছাড়া মাথা সিটি স্ক্যান করতে দুই হাজার টাকা, বুক আড়াই হাজার টাকা ও পেট সিটি স্ক্যান করাতে চার হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্ত বাইরে থেকে করাতে এর খরচ হয় দ্বিগুণেরও বেশি ।

বাবার সিটি স্ক্যান করাতে জেলার দাকোপ উপজেলা থেকে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের এসেছিলেন মো. আবজাল হোসেন।

তিনি বলেন, বাবার মাথার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। ডাক্তার বলেছে, সিটি স্ক্যান করাতে হবে। কিন্তু এখানে এসে শুনছি, এ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করা যাবে না। বাইরে থেকে করাতে হবে। আর বাইরে থেকে করাতে অনেক টাকা লাগবে। এত টাকা কীভাবে জোগাড় করব বুঝতে পারছি না।’

এমনিভাবে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর স্ক্যান করাতে না পেরে দালালদের খপ্পরে পড়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে।

জেএইচ/বিএইচ/

 
.



আলোচিত সংবাদ