যশোরে অ্যাপে ধান ক্রয় নিবন্ধন: প্রান্তিক কৃষকের বেশি লাভ

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬

যশোরে অ্যাপে ধান ক্রয় নিবন্ধন: প্রান্তিক কৃষকের বেশি লাভ

যশোর ব্যুরো ১১:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

যশোরে অ্যাপে ধান ক্রয় নিবন্ধন: প্রান্তিক কৃষকের বেশি লাভ

অনিয়ম দুর্নীতি কমাতে সরকার এবার অ্যাপের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যশোরে সদর উপজেলায় ‘কৃষক অ্যাপ’র মাধ্যমে আবেদন করে নির্বাচিত কৃষকরা দুই হাজার ৮২৬ মেট্টিক টন ধান ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবে।

এরমধ্যে ৫০ শতাংশই ক্ষুদ্র বা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। বাকি অর্ধেক মাঝারি ও বড় কৃষক সরবরাহ করবে। দুর্নীতি মুক্ত পদ্ধতিতে প্রান্তিক কৃষকের জন্য সুখবর। কারণ তারাই বেশি লাভবান হবেন।

জানা যায়, সারাদেশের ১৬ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের আওতায় যশোর সদর উপজেলার প্রায় আট হাজার কৃষক নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন আবেদন করা কৃষক যাচাই চলবে ২০ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে কৃষকের তালিকা। নির্বাচিত কৃষকদের মোবাইলে ম্যাসেজ চলে যাবে কতটুকু ধান বিক্রির জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তারপর তারা ধান সরবরাহ করবেন। টাকা চলে যাবে কৃষকের ব্যাংক হিসাবে।

এ প্রসঙ্গে যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, প্রতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে নানা অভিযোগ উঠে। এবার আমন মৌসুমের দেশের ১৬ জেলায় অ্যাপের মাধ্যমের ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলাও রয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর থেকে ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় আট হাজার কৃষক নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন আবেদনকৃত কৃষক আসলেই কৃষক কি না, সেটি যাচাই করা হবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর যাচাইকৃত কৃষকদের মধ্য থেকে অটোমেটিক পদ্ধতিতে লটারি হবে। লটারিতে নির্বাচিত কৃষকের মোবাইলে ম্যাসেজ চলে যাবে কতটুকু ধান তিনি বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এরপর কৃষক তার ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করবেন। ধান বিক্রির টাকা কৃষক তার ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যাবে। সদর উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৮২৬ মেট্টিক টন ধান ক্রয় করা হবে। প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্টিক টন ধান বিক্রি করতে পারবে। আমরা চেষ্টা করবো প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে এক মেট্টিক টন করে ক্রয় করে সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষককে সুযোগ করে দিতে।

তিনি আরোও বলেন, নতুন পদ্ধতি হলেও কৃষকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আগে যেখানে ৩’শ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ কৃষকের সাড়া পেতাম, সেখানে অ্যাপে প্রায় আট হাজার কৃষক নিবন্ধন করেছে। এটা খুবই ইতিবাচক। ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে  ইউনিয়ন ভিত্তি ধান চাষের পরিমাণের উপর নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ যে ইউনিয়নে ধান চাষ ও চাষি রয়েছে; সেখান থেকে সেই পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা হবে।

সদর উপজেলার পুলেরহাট গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, প্রথমে অ্যাপ’এ নিবন্ধনের মাধ্যমে ধান ক্রয় কিভাবে করবো জানতাম না। পরে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র গিয়ে নিয়ম জেনে অ্যাপ’এ ধান বিক্রির আবেদন করেছি। 

আরবপুর ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এসএম আরিফুজ্জামান বলেন, প্রথম দিকে অ্যাপ সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা ছিল না। নতুন পদ্ধতির কারণে অনেকে ভয় পাচ্ছিল। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সেই ভয় ভেঙেছে। কৃষকরা স্বর্তস্ফুর্তভাবে অ্যাপে নিবন্ধন করছে। এক্ষেত্রে আমরা কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। আমরা চাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান ক্রয়ের কার্যক্রম সফল হোক। দুর্নীতিমুক্ত ক্রয় পদ্ধতিতে প্রান্তিক কৃষকরা আরও উপকৃত হোক।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের নিবন্ধন আবেদন যাচাই করবে কৃষি কর্মকর্তা। যাচাইয়ে অনুমোদিত কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তিনটি ক্যাটাগরির কৃষক ধান বিক্রির জন্য মনোনীত হবেন। এরমধ্যে ক্ষুদ্র বা প্রান্তিক কৃষক ৫০ শতাংশ, মাঝারি কৃষক ৩০ শতাংশ ও বড় কৃষক ২০ শতাংশ। এই পদ্ধতিতে ধান ক্রয়ে অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

এআরই

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও