কুষ্টিয়ায় বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কুষ্টিয়ায় বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

কুষ্টিয়ায় বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে কুষ্টিয়ায় তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন বাসচালকরা। এতে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাসহ আভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ বুধবার সকালেও শহরের মজমপুর ও চৌড়হাস এলাকায় টার্মিনালে গিয়ে বাস না পেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহনে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশের প্রতিনিধি ও পরিবহন শ্রমিক এবং মালিকদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সভায় দীর্ঘ আলোচনায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনে কিছুটা শিথিলতার দাবি জানান পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

এসময় মুঠো ফোনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবী শুনে আশ্বাস দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট আপাতত প্রত্যাহার করে আজ বুধবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

এ নিয়ে রাতে চালকদের সাথে আলোচনায় বসেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। চালকরা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের কথা মানতে রাজি হয়নি। ফলে আবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন চালকেরা।

এদিকে কুষ্টিয়া থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জেলার কয়েকটি রেল স্টেশনে যাত্রীদের তীব্র চাপ বেড়েছে। যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে জোর করে ট্রেনে উঠছেন।

জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকালে কুষ্টিয়া বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মিনি পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলোতে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক বলেন, নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য চালকদেরই দায় নিতে হচ্ছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। চালকরা ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। তারপরও তাদের শাস্তি হবে। এ আইন মেনে নেয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। প্রয়োজনে সড়ক থেকে দরকার হয় মাঠে গিয়ে ধান কেঁটে খাবো।

আলেক চাঁদ নামে এক যাত্রী বলেন, কুষ্টিয়া বাস টার্মিনালে ও শহরের মজমপুর মোড়ে বাসগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আমরা এসে বাস চলাচল সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। কিন্তু বাস চলাচল কখন শুরু হবে, কেউ তা বলতে পারছেন না। এখন কিভাবে গন্তবে যাবেন তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ে আছি।

কুষ্টিয়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবজাল হোসেন বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সাথে আলোচনায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইনে কিছুটা শিথিলতার দাবি জানানো হয়।’

আবজাল আরও বলেন, ‘সভায় মুঠোফোনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য  মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির আশ্বাসে শ্রমিকদের ধর্মঘট আপাতত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাতে আমরা এসে চালকদের অনেক বুঝিয়েছি তারা এমন আইনে গাড়ি চালাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে চালক ও শ্রমিকরা তৃতীয় দিনের মতো বাস চালাচ্ছে না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে।’

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল। এ সময় মালিক ও শ্রমিকদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। চালক ও শ্রমিকরা বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’

এমএফ/

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও