মুখ দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে লিতুন

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মুখ দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে লিতুন

যশোর ব্যুরো ৯:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

মুখ দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে লিতুন

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে হার মানাতে পারেনি। জন্ম থেকেই তার দুই হাতের কনুইয়ের নিচে থেকে ও দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে নেই। তবুও অপ্রতিরোধ্য হয়েই এগিয়ে যাচ্ছে লিতুন জিরা। অদম্য লিতুন এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। 

লেখাপড়ায় খুব মেধাবী এই মেয়েটিকে নিয়ে বাবা-মা, শিক্ষকদেরও গর্বের শেষ নেই। ভালো ফলাফলের আশায় সবাই।

লিতুন জিরা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। এবার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

লিতুন জিরা জানায়, সে নির্ভরশীল হয়ে সমাজের বোঝা হতে চাই না। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে আরো দশজন মানুষের মতো আত্মনির্ভশীল হতে চায়। মুখ দিয়ে লিখেই মেধার সাক্ষর রাখছে এই শিক্ষার্থী। কয়েকদিন আগে প্রিয় দাদু ভাই মারা যাওয়ায় লিতুন জিরা মনে কষ্ট নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা প্রখর মেধাবী। হুইল চেয়ারেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতো। বর্তমানে হুইল চেয়ারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়েছে। তার বাবা উপজেলার এ আর মহিলা কলেজের প্রভাষক। তিনি গত ১৭ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর বেতন না হওয়ায় হুইল চেয়ার কেনার জন্য বাবাকে বলতে পারছে না লিতুন জিরা। বছর সাতেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ারটি দেয়া হয়। বর্তমানে তার একটি হুইল চেয়ার খুব দরকার।

লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা তাদের বসতো। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করছে। লিতুন জিরা আর দশজন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সব কিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। এসময় কথা হয় তার সাথে। লিতুনের একটাই ইচ্ছা, পরনির্ভর না হয়ে লেখাপড়া শিখে নিজেই কিছু করতে চাই।

 

লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,‘২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পায়নি। এককথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অন্যদের থেকে অনেক ভালো। সে মডেল টেস্টেও কেন্দ্রে প্রথম হয়েছে।’

জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিণ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে লিতুন। এই বাচ্চাদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়েটির একটি হুইল চেয়ার দরকার। এটি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। তাকে অবশ্যই একটি হুইল চেয়ার দেবো।’

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও