যশোরে নির্ভেজাল গুড় তৈরির শপথ গাছিদের

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

যশোরে নির্ভেজাল গুড় তৈরির শপথ গাছিদের

যশোর ব্যুরো ৭:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

যশোরে নির্ভেজাল গুড় তৈরির শপথ গাছিদের

যশোরের বাঘারাপাড়ায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কেনারহাট ডটকমের উদ্যোগে নির্ভেজাল গুড়-পাটালি তৈরির লক্ষ্যে গাছিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে গাছি সমাবেশে এ শপথ পাঠ করানো হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে কেনারহাটের মাধ্যমে সারাদেশে সাড়ে সাত হাজার কেজি খেঁজুরের গুড়-পাটালি বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ভেজালমুক্ত খেঁজুর গুড় ও পাটালি সরবরাহ করার লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ গাছিদের নিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কেনারহাটের উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে গাছি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ, বাঘারপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সুফিয়ান, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের আয়ুব হোসেন বাবলু। সমাবেশে ৬০জন গাছি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, যশোরের বিখ্যাত খেজুরের গুড়-পাটালির সারাদেশে সুনাম রয়েছে। সেই সুযোগে আপনাদের মধ্যে অনেকে অধিক মুনাফা লাভের আশায় পাটালিতে চিনিসহ বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ভেজাল করেন। খেজুর গুড় তৈরির মৌসুম শুরু হয়েছে। ভেজালের অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হবে।

তিনি বলেন, ভেজালের সত্যতা পেলে যে টাকা জরিমানা করা হবে তাতে লাভ-আসল দুটোই যাবে। সুতরাং আপনারা যশোরের ঐতিহ্যবাহী এই গুড়-পাটালিতে কোন ধরণের ভেজাল মেশাবেন না। ভেজাল না করার জন্যে আপনারা আজই হাত তুলে শপথ গ্রহণ করুন। জেলা প্রশাসকের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত গাছিরা দুই হাত তুলে খেজুরের খাঁটি গুড়-পাটালি উৎপাদনের শপথ নেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া গাছি সাইফুল ইসলাম বলেন, খেজুরের গুড়-পাটালি উৎপাদন খুব পরিশ্রমের কাজ। সেই তুলনায়  আমরা ন্যায্য দাম পাই না। তবে গত বছর থেকে ‘কেনারহাট ডট কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে বেশি দামে গুড়-পাটালি কেনা শুরু করেছে। যে কারণে আমরা গত বছর থেকে একটু বেশি দাম পাচ্ছি। ন্যায্য দাম না পেয়ে আগে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ ভেজাল করতো। কিন্তু বেশি দাম পাওয়ার কারণে এখন আর ভেজাল মেশানো হয় না। আমরা খাঁটি গুড়-পাটালি তৈরি করি।

কেনারহাটের উদ্যোক্তা নাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ১৭ নভেম্বর ‘সোনালী রসের দেশ যশোর’ প্রতিপাদ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কেনারহাটের যাত্রা শুরু হয়। বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৬০জন গাছির অংশগ্রহণে সমাবেশের মধ্যদিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কেনারহাটের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে কেনারহাটের মাধ্যমে সারাদেশে সাড়ে সাত হাজার কেজি খেঁজুরের গুড়, পাটালি বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইন মার্কেটিংয়ের ফলে গাছিরা গুড়-পাটালির ন্যায্য দাম পেয়েছে। একই সাথে গাছিদের তিন মেধাবী সন্তানের আজীবন লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। যশোর জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য খেঁজুরের গুড়-পাটালি সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও আইসিটি ডিভিশনের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) সার্বিক সহযোগিতা করছে।

আইআর/এসএস

আরও পড়ুন...
সংকটে যশোরের যশ খেঁজুরের রস

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও