বুলবুলের আঘাতে সর্বশান্ত সাতক্ষীরার চাষিরা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বুলবুলের আঘাতে সর্বশান্ত সাতক্ষীরার চাষিরা

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ৫:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

বুলবুলের আঘাতে সর্বশান্ত সাতক্ষীরার চাষিরা

সাতক্ষীরা জেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে তিন উপজেলায় ৫ হাজার ১৭ টি মৎস্য ঘের ভেঁসে গেছে। উপকূলীয় এলাকায় এসব প্রান্তিক চাষিরা এখন সর্বশান্ত। কিভাবে শোধ হবে ব্যাংক ঋণ এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই চাষিদের।

অন্যদিকে, সরকারি সহায়তা না পেলে সর্বশান্ত হয়ে পড়বে চিংড়ি চাষিরা বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলায় ৫ হাজার ১৭ টি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। এরমধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় ৩ হাজার ২ শত ৬৫ টি, আশাশুনি উপজেলায় ১ হাজার ৩ শত ১৭টি ও কালিগঞ্জ উপজেলায় ৪৩৫ টি মৎস্য ঘের একাকার হয়ে গেছে। জমির পরিমান ৪২ হাজার ৮ শত ৯২ বিঘা। এসব মৎস্য ঘের থেকে বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ চলে গেছে ৪১৪ মেট্রিকটন। যার বাজার মুল্যে ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন সাগর জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ব্যাপি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তান্ডবে চিংড়ি চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তফশীলভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা হতে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে গড়া মৎস্য খামারগুলো। 

শ্যামনগরের গাবুরা চকবারা গ্রামে মাছ চাষি ফিরোজ, আবুল হোসেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী গ্রামে হাবিবুর রহমান ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালি গ্রামে আব্দুর রহিমসহ অনেক মৎস্য চাষিরা জানান, মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। ঘের ভেসে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। মহাজনের ঋণের চিন্তায় তারা হতাশ।

এ ধরনের অভিব্যক্তি উপজেলার হাজারো মাছ ব্যবসায়ীর। তবে সরকারি ভাবে সহায়তা পেলে নতুনভাবে মাছ চাষ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ঘেরের ওপর নির্ভরশীল। র্ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলায় মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাছ উৎপাদনে এবার লক্ষমাত্রা অর্জনে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

প্রান্তিক চাষিদের বিঘা প্রতি ২-৩ কেজি চুন ছিটিয়ে নতুনভাবে চিংড়ি পোনা ছাড়ার জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাছাড়া চিংড়ি ঘেরের বেড়ি বাঁধ উঁচু করে নির্মাণ করতে বলা হচ্ছে। যাতে অতি বৃষ্টির কারণে প্লাবিত না হতে পারে। 

ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইকে/এমকে

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও