পুলিশি হেফাজতে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দা নির্যাতনের অভিযোগ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পুলিশি হেফাজতে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দা নির্যাতনের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি ৮:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

পুলিশি হেফাজতে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দা নির্যাতনের অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়া থানা হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামের এক যুবককে চোখ বেঁধে ও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক লোহাগড়া পৌর এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।

পরে নির্যাতনের শিকার শিহাব একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।

শিহাব মল্লিক জানান, গত ২ নভেম্বর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিহাব তার  ফুফাতো ভাই বদরুল মল্লিককে মারধর করে। মারধরের ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামি করে ঘটনার দিন লোহাগড়া থানায় মামলা করে।

শিহাব অভিযোগ করে করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুস সালাম সিদ্দিক পরদিন রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখে। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই সিদ্দিক শিহাব মল্লিককে হাতকড়া পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে পরের দিন ৪ নভেম্বর (সোমবার) সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন  চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সোমবার তাকে কিছুটা সুস্থ করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান।

শিহাবের এক নিকট আত্মীয় জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিক বলেন, যেদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে কোনো অত্যাচার করা হয়নি।

তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন হলো কিভাবে- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তার শরীরে বিভিন্ন দাগ আগে থেকে ছিল কিনা তা বলতে পারব না। এছাড়া  শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকলে আদালত এসব আসামিদের গ্রহণ করে না।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন জানান, শিহাব মল্লিককে গ্রেফতারের পরদিন সোমবার তাকে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। এখন কয়েকদিন পর সে জামিন পেয়ে নির্যাতের অভিযোগ করছে। বিষয়টি সঠিক নয়। আর অসুস্থ ব্যক্তিকে আদালত কখনও গ্রহণ করে না।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযোগটি শোনার পর লোহাগড়া ওসিকে ফোন করে জানতে পেরেছি অভিযোগটি সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি ভালো করে তদন্ত করে দেখছি।

লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, শিহাবের দুই হাঁটু থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং কালো দাগ রয়েছে। তার সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও