বুলবুলের প্রভাবে আবহাওয়া সিডরের মত, জনমনে আতংক

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বুলবুলের প্রভাবে আবহাওয়া সিডরের মত, জনমনে আতংক

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

বুলবুলের প্রভাবে আবহাওয়া সিডরের মত, জনমনে আতংক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি ঘুর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝালকাঠিতে আবহাওয়ার পরিবেশ অনেকটা সিডর পূর্ববর্তী সময়ের মত মনে হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে  ঝালকাঠিতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং থমথমে হয়ে আছে। দুপুর ১২ টার পর থেকে শুরু হয়েছে ঘুড়ি ঘুড়ি বৃষ্টি।

বঙ্গপসাগর নিকটবর্তী জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার জেলেদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসান। এ পরিস্থিতি মেকাবেলায় জেলা প্রশাসন বিকেলে জরুরী সভা ডেকেছে।

এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শুক্রবার দুপরের পর থেকে সকল ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে রাত থেকে  হাতিয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ ঘণ মেঘে ঢেকে গেছে। দিনের বেলায়ও আকাশে কোন রোদ দেখা যায়নি। এরফলে দিনের বেলায়ও অন্ধকার নেমে এসেছে। সকল নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের মাধ্যম সি-ট্রাকসহ সকল যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপসহ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সিগন্যাল পতাকা উত্তোলন ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রবল শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার মধ্যরাতে বাংলাদেশে আঘাত আনতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। ঝড়ের শক্তি বাড়তে থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আরেকটু ডানদিকে ঘুরতে পারে। আমাদের যে পর্যবেক্ষণ, তাতে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত আনবে। কাল শনিবার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানতে পারে’।

এফএ/ 

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও