অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

আব্দুর রশিদ মিয়া, চেয়ারম্যান-হলিধানী ইউনিয়ন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার আব্দুর রশিদ মিয়া ও রাজাকার শাহেব আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে সদরের নারায়ণপুর ত্রিমোহনী থেকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ ওয়ারেন্টের ভিত্তিত্তে তাদের গ্রেফতার করে।

আওয়ামী লীগ নেতা মিয়া আব্দুর রশিদ এ সময় ডাকবাংলা চালকল মালিক সমিতির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা হলিধানী ইউনিয়নের মেম্বর মতিয়ার রহমান ও সাগান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, দুপুরের দিকে সাদা পোশাকের একদল লোক আব্দুর রশিদকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা তাদের চিনতে পারিনি।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, মানবতাবিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুয়ায়ী আব্দুর রশিদ ও শাহেব আলী নামে দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য আশির উদ্দীন তার এলাকার ৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে সে সময় মামলাটি আপসরফা করতে বাধ্য হন মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীন।

অভিযোগপত্রে আশির উদ্দীন উল্লেখ করেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি পক্ষ ত্যাগ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশ স্বাধীনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেন। এ খবর জানতে পেরে রাজাকার মসলেম উদ্দীন, আব্দুর রশিদ, আলাউদ্দীন, হাকিম আলী খোন্দকার, শাহজাহান, আসমত ও শাহেব আলীসহ ৫০ জন রাজাকার কোলা গ্রামে তার বাড়ি ঘেরাও করে। আশির উদ্দীন ও তার আরেক ভাই মহিরুদ্দীন এ সময় কাশিপুর গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। রাজাকাররা তাদের দুই ভাইকে না পেয়ে বড় ভাই আজিবর মণ্ডল, হবিবার মণ্ডল ও আনসার মণ্ডলকে ধরে নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের ব্রিজের নিচে হত্যার পর লাশ গুম করে।

আসামিরা এ সময় তাদের ৫টি ও পাশের গ্রামের আরো ২৫টি বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বলিয়ে দেয়। রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বৃদ্ধ বাবা দুখি মাহমুদ ও মা কামিনী খাতুনকে।

মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীনের মৃত্যুর পর তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন দেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে আরেক দফা অভিযোগ করেন বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে। গত ৯/১০ মাস আগে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল থেকে তদন্তে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর জালিয়ে দেয়া ও স্বজনদের হত্যার প্রমাণ সংগ্রহ করে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে দেশ স্বাধীনের পর আইডিএল, জামায়াত, চরমপন্থি সংগঠন হক গ্রুপ, সর্বহারা ও সর্বশেষ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন রাজাকার আব্দুর রশিদ। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে রাজাকার থেকে রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়ে নৌকা প্রতীকে ইউপি নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

তার দুই ছেলে হারুন ও বজলুর রশিদও যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তারাও খুব বেপরোয়া চলাফেরা করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এলাকায় কথিত আছে, চাঁদাবাজি, ইয়াব, অস্ত্র ব্যাবসা ও শালিস বিচারের নামে কোটি কোটি সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন এই রাজাকার পরিবার। তাদের অত্যাচারে হলিধানী ইউনিয়নের মানুষ এক রকম অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

গুজব আছে আওয়ামী লীগকে সিঁড়ি বানিয়ে ঝিনাইদহ, ঢাকা ও ভারতেও বাড়ি তৈরি করেছে রাজাকার আব্দুর রশিদ।

এ বিষয়ে আব্দুর রশিদের বড় ছেলে হরুন অর রশিদ জানান, কে বা করা আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে তা আমি বলতে পারি না। তবে ঝিনাইদহের কোনো জায়গায় খুঁজে আমি বাবার সন্ধান পায়নি।

ঝিনাইদহ জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন জানান, দুই রাজাকার গ্রেফতার বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলার খবর তিনি জানেন না।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আব্দুর রশিদ ও শাহেব আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও