সাঙ্গ হলো ছেঁউড়িয়ার লালন স্মরণোৎসব

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

সাঙ্গ হলো ছেঁউড়িয়ার লালন স্মরণোৎসব

মেজবা উদ্দিন পলাশ, কুষ্টিয়া ১০:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

সাঙ্গ হলো ছেঁউড়িয়ার লালন স্মরণোৎসব

‘বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শেষ হয়েছে।

শুক্রবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল এই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া।

এ উপলক্ষে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে রাতের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ- আসকারী।

আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। এদিকে উৎসব ছেড়ে অধিকাংশ সাধু-গুরুরা ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই লালন স্মরণোৎসব চালিয়ে আসছে। এবারও পথ প্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছিল।

লালনের রীতি অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় অধিবাস, পরদিন সকালে বাল্য ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করে অনুসারীরা আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করে। যেখানে লালন অনুসারীরা খণ্ড খণ্ডভাবে বসে সাধুসঙ্গে অংশ নেন অডিটোরিয়ামের নিচে সেই জায়গা আজকে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে।

তবে আখড়াবাড়ির বাইরে কালী নদীর তীরে বাউল মেলা আজ রাত অবদি চলবে। ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও