পরিবারের তিনজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও লুটপাট

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পরিবারের তিনজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও লুটপাট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৬:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

পরিবারের তিনজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও লুটপাট

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে নারীসহ এক পরিবারের তিনজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনসহ বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেয়ায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী কেড়াগাছি ইউনিয়নের বকসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে আটকরা হলেন, বাকরা গ্রামের আশরাফুল, মোস্তাফিজুর, নজরুল, জলিল, ফিরোজ ও সেলিম।

কেড়াগাছি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাকসা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমার ছেলে ওসমান গণি, ছেলে বউ আসমত আরা, আমার স্ত্রী মোমেনাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায় ও বসতঘর ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে শেষরক্ষা হয়নি। সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২২ শতক জমি শ্বশুর আমার স্ত্রীর নামে লিখে দেন। তিন বছর আগে সেই জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছি। এই জমি আমার শ্বশুরের ভাতিজারা দাবি করে। মূলত এটা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন। এই দ্বন্দ্বের সুযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর আমার ছেলের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করি। পরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেয় গফুর। টাকা নেয়ার পরেই তার নেতৃত্বে এ তাণ্ডব চলেছে। তাণ্ডবে যারা অংশ নিয়েছে সবাই জামায়াত-শিবিরের সমর্থক।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কেড়াগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মারুফ হোসেন জানান, অতর্কিত এ হামলার পর স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা- ৯৯৯ কল দেয়। তারপর কলারোয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ জনকে আটক করে।

ঘটনার বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনির উল গীয়াস বলেন, ভাঙচুর চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে থানাতে কেউ কল দেয়নি। জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ও অজ্ঞাতনামা ১২-১৩ জনের নামে থানায় এজাহার দিয়েছেন আজিজুল ইসলাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও