কুষ্টিয়ায় চলছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

ঢাকা, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২৪ কার্তিক ১৪২৬

কুষ্টিয়ায় চলছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

কুষ্টিয়ায় চলছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

“বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে” বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে এখন লালন একাডেমির মূল মঞ্চে চলছে লালনের গান।

মানুষে মানুষে ভজনা সাধনার মাধ্যমে নিজেকে ও অচেনাকে চেনা এবং সোনার মানুষ হতে প্রতিবারই এসব লালন ভক্তরা এই অনুষ্ঠানে আসেন। ইতিমধ্যেই একতারা, দোতারা আর ঢোল বাঁশির সুরে জমে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ী।

এর আগে বুধবার রাত ৮টায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এই লালন স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশা, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান।

আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে একাডেমির শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।

এদিকে, লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে আসা ভক্ত সাধু, লালন অনুসারী, আর দর্শনার্থীরা কালী নদীর পাড়ে এ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পীদের লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। সেখান থেকে একটুর জন্যই চোখ সরায়নি ভক্ত সাধু, লালন অনুসারী, আর দর্শনার্থীরা লালনের গান শুনতে গভীর রাতেও জেগে ছিলেন। কোনো ক্লান্তি তাদের লাগেনি। রাত যত বাড়ে গানের আসর ততই বাড়ে।

রাজশাহী থেকে লালন আখড়াবাড়িতে আসা দর্শনার্থী আনিকা বলেন, লালনের গান ছোট্ট বেলা থেকে শুনে আসছি টেলিভিশন রেডিও  আর মোবাইলের মাধ্যমে। তাই আজ গভীর রাত জেগেও সরাসরি সেই গান লালন স্মরণোৎসবের মূল মঞ্চে থেকে গান শুনছি।

ঢাকা থেকে লালন আখড়াবাড়িতে আসা দর্শনার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, লালনের গান ভালো লাগে বলেই এত দূর থেকে এসেছি। লালনের অনুসারীদের দেখতে এসেছি। এখকার পরিবেশ দেখে খুব ভালো লাগছে। আবারো লালন উৎসবে আসবো।

লালন গবেষক ফকির হৃদয় শাহ বলেন, লালনের ভাব-দর্শনসহ তার মানবসেবার বৈশিষ্ট্যগুলো হৃদয়ে ধারণ করেই তার ভক্ত-অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছেন আখড়াবাড়িতে। এবার ভিন্নতা উপলব্ধিও করেছেন এ অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত-অনুসারীরা।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ১২৯তম তিরোধান দিবস স্মরণ অনুষ্ঠান হলেও এবারের প্রয়াণ দিবসেও আকস্মিক আবির্ভাব ঘটছে এই মরমি সাধকের প্রয়াণ দিবসের স্মরণোৎসবে। তাই তার ভক্ত-অনুসারীদের হৃদয়ে এ যেন এক নতুন মাত্রা।

লালন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির মহম্মদ আলী শাহ বলেন, উপ-মহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট লালন ফকির মৃত্যুর সময় তার শিষ্যদের বলেছিলেন, আমি কোনো ধর্মের লোক নই, থাকার ঘরেই আমার সমাধি হবে, আর সে সময় আমার গান চলবে। এর পর থেকে প্রথমে লালন অনুসারীরা, পরে লালন একাডেমির কমিটির এই উৎসব পালন করে আসছে।

লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে ১৮ অক্টোবর শুক্রবার রাতে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই লালন স্মরণোৎসব চালিয়ে আসছে। এবারও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি এ লালন স্মরনোৎসবের আয়োজন করেছে।

এমইউপি/আরপি

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও