দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু

মোংলা প্রতিনিধি ৪:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু

চুক্তির নির্ধারিত সময়ের দু’মাস আগেই মোংলার নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ থেকে প্রথম ধাপে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রথম ধাপে চলতি সপ্তাহে উৎপাদিত ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে পৌরসভার পানি শোধনাগারের প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাকি ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন আগামী দু’বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভাসমান এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে ভারত সরকার মোংলা পোর্ট পৌরসভাকে দিয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। ভারতীয় ও বাংলাদেশি একটি কোম্পানির সঙ্গে গত ২৩ জুন মোংলা পোর্ট পৌর কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি ভারতীয় ও দেশি একটি কোম্পানির সঙ্গে গত ২৩ জুন মোংলা পোর্ট পৌর কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোংলা পোর্ট পৌরসভার মাছমারা এলাকায় পানি শোধনাগার কেন্দ্রের দুটি পুকুর ও পুকুরপাড়ে ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান ও পুকুরধার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জুলাই মাস থেকে কাজ শুরু করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকারের দেয়া অফেরতযোগ্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা সরবরাহ করার কথা থাকে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের নির্ধারিত সময় শেষ হবার দু’মাস আগেই চলতি অক্টোবর মাস থেকে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

অপরদিকে চুক্তির অপর শর্ত অনুযায়ী ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ২ বছরের মধ্যে বাকি ১৩ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এ প্রকল্প থেকে। এই ১৫ মেগাওয়াট ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ মোংলা পোর্ট পৌরসভা ব্যবহার করার পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রথম দফার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পানি শোধনাগারের পুকুরপাড়ে সোলার বসিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গত শুক্রবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পানি প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী দু’বছরের মধ্যেই এ পুকুর পাড় ও পুকুরের মধ্যে ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট বসিয়ে মোট ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। পরে এসব বিদ্যুৎ মোংলা পোর্ট পৌর এলাকায় ব্যবহার করার পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য (মোংলা-রামপাল) ও বন পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, ‘ভাসমান ও পুকুরপাড়ে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করবে। ভারতের সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আমাদের মধ্যে মৈত্রীভাব আরও সুদৃঢ় হবে।’

তিনি বলেন,  ‘এ ধরনের প্রকল্প বাংলাদেশে এই প্রথম। এই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট সারা বাংলাদেশে বৃদ্ধি পাবে আশা করি। সুন্দরবন সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র মোংলায় স্থাপনের জন্য তিনি পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।’

এমএমএফ/এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও