নড়াইলে এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

নড়াইলে এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইল  প্রতিনিধি ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

নড়াইলে এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসএম সুলতানের এই মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।

এসএম সুলতান কমপ্লেক্স ও শিশুস্বর্গে  কোরআন খানি, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরষ্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।

সকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেসক্লাব, এসএম, সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

পরে শিশুস্বর্গের সভাকক্ষে শিল্পীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।

এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ারুল ইসলাম, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবির টুকুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে।

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়।

সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৮ সালে ভর্তি হন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। এ সময়ে ছবি আঁকার হাতেখড়ি তাঁর। সুলতানের আঁকা সেই সব ছবি স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি আর্কষণ হয়।

নড়াইলের জমিদার ব্যারিস্টার ধীরেন রায়ের আমন্ত্রণে ১৯৩৩ সালে রাজনীতিক ও জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে গেলে তার একটি প্রতিকৃতি (পোট্রেট) আঁকেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুলতান। মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রাসাদসহ অন্যরা। লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা ও জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সে সময় চিত্র সমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তার পরিচয় হয়।

সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান সুলতান। ১৯৪৩ মতান্তরে ’৪৪ সালে আর্ট স্কুল ত্যাগ করে ঘুরে বেড়ান এখানে-সেখানে। এরপর জীবনের নানা চরাই-উৎরাই পেরিয়ে এবং সংগ্রামী জীবনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছেন।

চিত্রশিল্পের খ্যাতি হিসেবে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদকসহ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পান।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও