আবরার হত্যায় জড়িত অমিত, মিজান ও রাফাতকে গ্রেফতার: ডিএমপি (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

আবরার হত্যায় জড়িত অমিত, মিজান ও রাফাতকে গ্রেফতার: ডিএমপি (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা থাকায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

এজাহার বহির্ভূত গ্রেফতাররা হলেন- অমিত শাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান এবং শামসুল আরেফিন রাফাত।

মনিরুল ইসলাম বলেন, এ তিনজনের নাম এজাহারে না থাকার পরেও প্রাথমিক তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আসায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত করতে গিয়ে অমিত সাহার পরোক্ষ ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেক সময় ঘটনাস্থলে না থেকেও অনেকে অপরাধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অমিতেরও ঘটনার সাথে তেমনই পরোক্ষ ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে। 

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর এজাহার দায়েরের আগেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, এখন পর্যন্ত আববার হত্যাকাণ্ডে ১৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছে৷

গ্রেফতার ১৫, তিনজন এজাহারভুক্ত নন: ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, এখন পর্যন্ত আববার হত্যাকাণ্ডে ১৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি নন, তবে তদন্তে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ও শামসুল আরেফিন রাফাত। আবরার হত্যা মামলার তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় পদ-পদবী, সামাজিক অবস্থান এগুলো বিবেচনা না করে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আসামিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বাকি যারাই এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।

শিবির সন্দেহ হত্যাকাণ্ডের একটি কারণ: হত্যাকাণ্ডের মোটিভ জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে আমরা অনেকটা জানতে পারলেও তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে শিবির সন্দেহে আবরারকে মারধরের একটা কারণ পেয়েছি। তবে এটিই হত্যার একমাত্র কারণ কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যে কারণে প্রথমবার হলে গিয়ে ফিরে আসে পুলিশ: টহল পুলিশ আগেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, এক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতা আছে কিনা এমন প্রশ্নে মনিরুল বলেন, গোলমাল হচ্ছে এমন খবর পেয়ে টহল পুলিশের একটি দল শেরেবাংলা হলে যায়। কিন্তু হলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে টহল দলটি সেখানে গেলে সেখানকার ছাত্ররা জানায় সেখানে কোন কিছুই ঘটেনি। ভেতর থেকে গোলমালের কোন শব্দও পাওয়া যায়নি। এটা দুঃখজনক৷ আমরা যদি এই ঘটনার বিন্দুমাত্র আভাস পেতাম, অনুমতির রেওয়াজ মানতাম না। হল বা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অনেক বড়, ভেতরে কোন গোলমাল হলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না।

গত রোববার রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চক বাজার থানায় হত্যা একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা বরকতুল্লাহ।

পিএসএস/এসবি

আরও পড়ুন...
আবরার হত্যার প্রধান অভিযুক্ত অমিত সাহা গ্রেফতার
এবার আবরারের রুমমেট মিজান আটক

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও