ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-নির্যাতনের অভিযোগ নারীর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-নির্যাতনের অভিযোগ নারীর

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ৬:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-নির্যাতনের অভিযোগ নারীর

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে রীনা পারভীন (৪০) নামে এক নারী হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী ওই নারী কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রীনা পারভীন বলেন, চলতি বছরের ২০ জুলাই কোটচাঁদপুর উপজেলার নওদা গ্রামের ববিতা বেগম (৩৫) নামে এক নারী গর্ভবতী অবস্থায় নিজ বাড়ির টিউবয়েল পাড়ে পড়ে যায়। এতে ববিতার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই হাসপাতাল চত্বরের আমগাছ তলায় বিশ্রাম নিতে বসলে সেখানে ববিতার মেয়ে সন্তান প্রসব করে। এতে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থা দেখে অভিযোগকারীর মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার মো. রকি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক অ্যাম্বুলেন্স মালিক হিংসাবশত এ ঘটনাকে নিয়ে আমার ও আমার ড্রাইভারের নামে কোটচাঁদপুর থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেয়। এতে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে রোগীর কাছে আসে এবং ববিতাকে ভর্তি করে তার স্বামী আক্তারুজ্জামান আক্কাচকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে কোটচাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর রকিব হোসেনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু টাকা নিয়েও ববিতার স্বামী আক্কাসকে দিয়ে আমার নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করে। পরে হাসপাতাল কোয়ার্টার থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে আমাকে টেনে-হেচড়ে থানায় নিয়ে মহিলা হাজতে আটকে রাখে। পরে ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাজতখানা থেকে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম ও ২ জন কনস্টেবল আমাকে তিনতলায় নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন মারপিট করে নাকের মধ্য পানি ঢালে। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি মহিলা পুলিশের পাহারায় আমি কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে। এরপর আমি দুই মাস জেলহাজতে থাকার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হই।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনের আগে ওসি মো. মাহবুবুল আলম আমার কছে ৭ লাখ টাকা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে তোকে ১০/১২টি মামলায় ফাঁসিয়ে দেব। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন পারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, আমি অভিযোগের ভিক্তিতে রিনা পারভীনকে গ্রেফতার করি। ঘটনার রাতে তার প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় তাকে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

এসএএস/এইচকে

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও