১৫ বছর পর স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিশোধ

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

১৫ বছর পর স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিশোধ

যশোর ব্যুরো ১০:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

১৫ বছর পর স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিশোধ

১৫ বছর আগে হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে মিনারুল ইসলামের অবৈধ মেলামেশা ধরা পড়ে যায়। এই ঘটনার পর স্ত্রীকে তালাক দেন হাফিজুর। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। মিনারুলের কারণে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই থেকেই হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করেন।

সুযোগের অপেক্ষায় থাকার এক পর্যায়ে গত ১৪ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিনারুলকে কুপিয়ে হত্যা করে হাফিজুর রহমান।

শনিবার বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হাতে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উসমানপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৪৮)।

নিহত মিনারুল ইসলাম (৩৮) যশোর সদর উপজেলার শালতা গ্রামের সদর আলী মোল্লার ছেলে।

রোববার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারের পর হাফিজুর জানিয়েছে তার ছোট ভাই মান্নানের বন্ধু ছিলেন ভিকটিম মিনারুল। এক সময় ভাই মান্নানের বাড়িতে দর্জির কাজ করত। সেই সুবাদে তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। এরমধ্যে হাফিজুরের প্রথম স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে মিনারুলের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আনুমানিক ১৫ বছর আগে মিনারুলকে তার স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে মেলামেশা করতে দেখে ফেলে। কিন্তু বিষয়টি তিনি গোপন রাখেন।

এ ঘটনার জন্য মিনারুল ক্ষমাও চান হাফিজুরের কাছে। হাফিজুর তার প্রথম স্ত্রী সাবিনাকে খুব ভালোবাসতেন। তবুও অবৈধ সম্পর্কের কারণে তালাক দেন। পরবর্তীতে বর্তমান স্ত্রী ডলিকে (৩৫) বিয়ে করেন। এরই মধ্যে মিনারুল সালতা গ্রামের বিলবিস নামে এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিলকিস গর্ভবর্তী হলেও তাকে বিয়ে করেনি। এ ঘটনায় মিনারুল জেলও খাটেন। তারপরও হাফিজুরের রাগ মেটেনি। মিনারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজুর। মিনারুলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে তাকে মামা বলে ডাকে। তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে।

হাফিজুর তার প্রথম স্ত্রীর সাথে অবৈধ মেলামেশার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ঈদের কয়েকদিন আগে মিনারুলের বাড়িতে যায়। মিনারুলের সাথে তার স্ত্রী সাথীকে আমোদ ফূর্তি করতে দেখে হাফিজুর ক্ষুব্ধ হয়। মনে মনে মিনারুলকে হত্যার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঈদের পরদিন (১৩ আগস্ট) রাত অনুমান একটার দিকে মিনারুলের সাথে দেখা করতে যায়। ঘুম থেকে ডেকে তুলে দুজন আমগাছের নিচে বসে বিড়ি খায়। ১৪ আগস্ট  সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে হাফিজুর বাড়িতে থাকা একটি আছাড়বিহিন দা হাতে শুধুমাত্র একটি গামছা নিয়ে মিনারুল বাড়ির কাছে যায়। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে দা লুকিয়ে রেখে আসে। শরীরে যাতে রক্ত না লাগে সেজন্য খালি শরীরে শুধুমাত্র গামছা নিয়ে মিনারুলের বাড়িতে যায়। মিনারুলকে ডেকে কথা বলে। সেসময় মিনারুলের স্ত্রী সাথী পাশে বসে মোবাইল ফোনে ভারতীয় সিআইডি দেখছিল। আর মিনারুল গরুর জন্য বিচালি কাটছিল। হাফিজুর সেই সময় মিনারুলের সাথে কয়েক মিনিট কথা বলে বাড়ির বাইরে যায়।

মিনারুলের বাড়ির দিকে লক্ষ্য রাখে। মিনারুলের বাড়িতে কোন দেয়াল নেই, ফাঁকা বাড়ি। হাফিজুর বাইরে সুযোগ খুঁজতে থাকে। মিনারুলের বিচালি কাটা শেষ হলে তার স্ত্রী সাথী ঘরে উঠে যায়। মিনারুল দুই আঁটি বিচালি বাড়ির সামনে বিচালির পালায় রাখতে যায়। এসময় হাফিজুর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক  মিনারুলকে বাইরে ডাকে।

মিনারুল তার ডাকে বাড়ির বাইরে রাস্তার উপর উঠে আসে। হাফিজুর কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে যায় জঙ্গলের কাছে। সেখানে একটি ম্যাগনেট জাতীয় জিনিস আছে বের করে দেখতে বলেন। 

তার কথায়, মিনারুল জঙ্গলে উপুড় হয়ে টর্চলাইট জালিয়ে জিনিসটি (ম্যাগনেটটি) খুঁজতে থাকে। সেই সময় আসামি হাফিজুর সুযোগ বুঝে পেছন থেকে দা বের করে মিনারুলের ঘাড়ে দা দিয়ে দুইটি কোপ দেয়। মিনারুল পেছনে ঘোরার চেষ্টা করলে হাফিজুর তার হাতে থাকা দা দিয়ে মিনারুলের কপালে দায়ের উল্টা পিঠ দিয়ে আঘাত করে। মিনারুল মাটিতে পড়ে গেলে সে দা হাতে বাড়িতে চলে যায়। দা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে লুকিয়ে রাখে।

হাফিজুরের স্বীকারোক্তিতে মিনারুলকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত দা হাফিজুরের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট নিহতের ভাই আক্তারুজ্জামান অজ্ঞাত আসামিদের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও