ধর্ষণচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত- গণপিটুনিতে নিহত ২

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ধর্ষণচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত- গণপিটুনিতে নিহত ২

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

ধর্ষণচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত- গণপিটুনিতে নিহত ২

চুয়াডাঙ্গায় বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে বাধা দেওয়ায় ওই ব্যক্তির (ধর্ষণের চেষ্টাকারী) উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে হাসান আলী (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছে স্কুলছাত্রীসহ আরও দুইজন। এ সময় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে আকবর আলী নামের ওই ব্যক্তিও নিহত হয়েছে।

আজ শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান আলী আমিরপুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে। গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলী দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সবজির ব্যবসা করতো বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের পঙ্গু হামিদুল ইসলামের বাড়িতে শনিবার ভোররাতে আকবর আলী নামের ওই সবজি ব্যবসায়ী হানা দেয়। এর পর সে হামিদুল ইসলামের স্কুলপড়ুয়া নাতনীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় স্কুলছাত্রীর আত্মচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ করতে গেলে আকবর আলী উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় গৃহকর্তার ছেলে হাসান আলী (২৬)। গুরুতর আহত হয় ওই স্কুলছাত্রীসহ তার পঙ্গু নানা হামিদুল ইসলাম।

গ্রামবাসী টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলাকারী আকবর আলীকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তারও মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, মো. কলিমুল্লাহসহ পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা গুরুতর আহত গৃহকর্তা হামিদুল ইসলাম ও তার নাতনীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সকাল ৮টার দিকে নিহত হাসান ও গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলীর লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, উপর্যুপরী ছুরিকাঘাতের কারণে পঙ্গু হামিদুল ইসলামের শরীরে অসংখ্যা ক্ষত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহত স্কুলছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার জানান, ধর্ষণের চেষ্টাকারী আকবর আলী বেশ কিছু দিন ধরে ওই গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল। ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে সবজি বিক্রির ব্যবসা করলেও তার স্বভাব-চরিত্র খারাপ ছিল। এর আগেও সে গ্রামের এক নারীকে ধর্ষণের সময় হাতে-নাতে আটক হয়েছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলীর স্বভাব-চরিত্র খারাপ ছিল। স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের জন্যই মূলত সে ওই বাড়িতে হানা দেয়। স্থানীয়রা এমনটিই তথ্য দিচ্ছেন। আমরা প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছি।

এএস/জেডএস/আরপি

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও