‘আর কাউকে যেন এভাবে ঈদ করতে না হয়’

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘আর কাউকে যেন এভাবে ঈদ করতে না হয়’

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ৪:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৯

‘আর কাউকে যেন এভাবে ঈদ করতে না হয়’

‘আগে কখনো ঈদের দিন এভাবে হাসপাতালে থাকতে হয়নি। আমি হাসপাতালে থাকায় পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। আর কাউকে যেন এভাবে ঈদ করতে না হয়।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত আবু বকর সিদ্দিক (৩০) অনেক কষ্টে এ কথাগুলো বলছিলেন। এই হাসপাতালের মেঝেতেই চলতে তার চিকিৎসা।

আবু বকর সিদ্দিকের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে ফেরার পথে তিন জ্বরে আক্রান্ত হন।

শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরীক্ষায় ধরা পড়েছে তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত।

জীবনে প্রথম এবারই এভাবে হাসপাতালে ঈদ কাটছে বলেও জানালেন আবু বকর সিদ্দিক।

আবু বকর সিদ্দিকের পাশে বসা ভাই লিয়াকত আলী বলেন, ‘এবার ঈদ কীভাবে চলে গেল বুঝতেই পারিনি। ভাইয়ের কাছেই আছি। সবার মনে কষ্ট। অসুস্থ মানুষকে রেখে আনন্দ করা যায় না।’

শুধু আবু বকর সিদ্দিক ও তার পরিবার নয়, তার মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পরিবারে এবারের ঈদ আনন্দ নেই। অধিকাংশ রোগী জীবনে প্রথমবারের মতো ঈদের দিন হাসপাতালে কাটাচ্ছেন।

ঈদের দিন (সোমবার) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডেঙ্গু কর্নরে দায়িত্বরত সেবিকা সঞ্চিতা অধিকারী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘নারী ও শিশু বাদে এখানে ৪০ জন পুরুষ রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে ৯ জন নতুন রোগী। ঈদের দিনে তিনি একাই সেবা দিচ্ছেন। কোনো সমস্যা নেই।’



তিনি বলেন, ‘বছরে একটা দিন সহকর্মীরা আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ভালো লাগছে। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। ঈদ উপলক্ষে অনকলে এখানে দায়িত্বে আছেন।’

ডেঙ্গু কর্নারে চিকিৎসাধীন শহরের চাঁচড়া এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাহিদ আল হাসান শুভ বলেন, ‘তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি। জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি। ঈদের আনন্দ মাটি হয়েছে। এমন ঈদ যেন কারো জীবনে না আসে।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রামের মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খুব ভুগছি। শরীরটা ভালো নেই। পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন। হাসপাতালে চলে এসেছে। এবারের ঈদ আমাদের হাসপাতালে। অথচ গ্রামে ঈদের নামাজ আমারই পড়ানোর কথা ছিল।’

মাহবুবুর রহমানের বাবা আবদুল আজিজ বলেন, ‘অসুস্থ ছেলের কাছে পরিবারের সবাই। এবার আমাদের ঈদের আনন্দ নেই।’

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও