বাবাকে শ্বাসরোধে, মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

বাবাকে শ্বাসরোধে, মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

মোঃ জামাল হোসেন, খুলনা  ৫:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

বাবাকে শ্বাসরোধে, মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চৌধূরীসহ জোড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায়ে ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে প্রত্যেককে আরো ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাঃ মহিদুজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ধর্ষণের মামলায়ও ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে, খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাইদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)।

এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি শরিফুল পলাতক রয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্যক্ত করতো এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্যক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও তার পিতা ইলিয়াস চৌধূরীসহ তাকে হত্যা করা হয়।

নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউজ এপি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে।

বাবা ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভিতরে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে দেয় খুনিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় লবনচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদি হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ কাজী বাবুল ৫ আসামিকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষণের মামলায় ২৮ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন গ্রেফতার হয়। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলি গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে বলেন, এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কু-প্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতো। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার রাতে বাড়ির দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে ৫ আসামি। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি ফরিদ আহমেদ। সহায়তায় ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে কাজী সাব্বির আহমেদ, মোমিনুল ইসলাম, তসলিমা খাতুন ও কুদরত ই খুদা।

এএসটি/

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও