ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে অমানবিক নির্যাতন কলেজ শিক্ষকের

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে অমানবিক নির্যাতন কলেজ শিক্ষকের

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১১:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে অমানবিক নির্যাতন কলেজ শিক্ষকের

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহ্সান কবীর রানা নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফজলু মল্লিক নামে এক গরীব ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোববার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, আজ বেলা ১২টার দিকে জাহিদ ও সালাম নামের দুই কলেজের কর্মচারী এসে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ফজলু মল্লিককে বলে অফিসে আহ্সান কবীর রানা স্যার ডাকছেন। তারপর ফজলু মল্লিক গেলে কিছুক্ষণ পর দেখি, ফজলু মামা কাঁদতে কাঁদতে অফিস থেকে বেরিয়ে আসছে। পরে দেখি তার সারা শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন।

তারপর ফজলু মল্লিক মামার মুখে শুনি তাকে লাঠিপেটা করে আহত করেছে আহ্সান কবীর রানা নামে ওই কলেজ শিক্ষক।

ছাত্র-ছাত্রীরা আরও জানায়, আহ্সান কবীর রানা স্যার যেভাবে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে পিটিয়েছে এভাবে একজন চোরকেও মানুষ পিটায় না। আমরা দেখেছি ফজলু মামা সারা দিন ঝালমুড়ি বিক্রিয় করে আবার সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাস এলাকার সব কাগজ কুড়িয়ে ফেলে দেয়।

ফজলুর সাথে কলেজ শিক্ষকের এমন আচরণ কখনোই প্রত্যাশা করে না কলেজ শিক্ষার্থীরা।

আহত ঝালমুড়ি বিক্রেতা ফজলু মল্লিক জানান, আমি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস এলাকায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রয় করে আসছি। কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী থেকে আমার সন্তানের মত মনে করি। আর তাদের ভালোবাসার টানে তাদের কাছে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রয় করি। সারা দিন ঝালমুড়ি বিক্রিয় করে আবার সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাস এলাকায় পড়ে থাকা কাগজগুলো কুড়িয়ে ফেলে দেই। প্রতিদিনের মত আজও ঝালমুড়ি বিক্রয় করতে এসেছিলাম। হঠাৎ জাহিদ ও সালাম নামের দুই কলেজের কর্মচারী এসে বলে রানা স্যার আমাকে ডেকে তার রুমে।

তিনি বলেন, তাই তার রুমে গেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ওই সময় স্যার আমাকে মারছেন কেনো এ কথা জিজ্ঞাসা করায় আরো বেশি মারধর করে। পরে আমার পরিবারের লোকজন এসে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আহত ঝালমুড়ি বিক্রেতা ফজলু মল্লিক কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট পাড়া এলাকার আকবর মল্লিকের ছেলে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহ্সান কবীর রানার সাথে মুঠোফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেনি।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী মঞ্জুর কাদির জানান, আসলে ওই ব্যাক্তিকে পেটানো ঠিক হয়নি। তিনি কোনো অপরাধ করলে আমার কাছে নিয়ে আসতে পারতেন। আমি ব্যাপারটি দেখতাম।

এআরই

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও