চার কোটি টাকা নিয়ে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর উধাও

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

চার কোটি টাকা নিয়ে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর উধাও

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

চার কোটি টাকা নিয়ে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর উধাও

এক হাজার এজেন্টের চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ‘বিকাশ’ এর সাতক্ষীরা জেলা ডিস্ট্রিবিউটর  ফারুক হোসেন। এ ঘটনার পর এজেন্টদের এখন মাথায় হাত। হায় হায় করছেন তারা।

সোমবার সকাল থেকে জেলার এজেন্টরা তার খোঁজ পাচ্ছেন না। তাদের সব ফোন বন্ধ। তার অফিসে তালা, বাড়িতেও ঝুলছে তালা।

এ ঘটনায় এজেন্টদের বিক্ষোভের মুখে ‘বিকাশ’ অফিসের ম্যানেজারসহ তিনজনকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে বিকাশ এজেন্টরা অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা আমাদের চাহিদা মতো টাকা পাই না। আমাদের জমা থেকে তিন লাখ টাকা চাইলে দেয়া হয় এক লাখ। এভাবে বেশ কিছুদিন তাদের ব্যবসা বাধার মুখে পড়তে থাকে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের সাথে ঝগড়া হয়ে আসছে।

এজেন্টদের অভিযোগ, বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর আমাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হুন্ডির কাজে ব্যবহার করছেন। লাভজনক কোনো গোপন ব্যবসার সাথেও জড়িয়ে গেছেন তারা।

অভিযোগ করে এজেন্টরা আরো বলেন, বিকাশ কর্মকর্তারা তাদের টাকা হাতে পেলেও ছাড়ছেন খুব কম। এতে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন ও তার লোকজন অফিস থেকে উধাও। তাদের  খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিভাগীয় শহর খুলনায় অবস্থানরত জোনাল অফিসের লোকজনও ফোন ধরছেন না বলে অভিযোগ করেন এজেন্টরা।

তারা অভিযোগ আরো করেন, আজ সকালে ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক তাদের ফোন করে জানায় ‘যার যা টাকা দরকার সকাল ১০টার আগেই আমার নম্বরে পাঠাতে হবে। বিষয়টি জরুরি। আমরা সকালেই টাকা ঢুকানোর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি ফারুক প্রতারণা করেছে। সে তার লোকজন নিয়ে পালিয়ে গেছে।’

ফলে তাদের টাকা বিকাশ ডিলারের কাছে জমা থাকলেও তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। সাথে সাথে বিষয়টি তারা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে তিনজনকে খুঁজে পান। তারা হলেন ইব্রাহীম, বিশ্বজিত ও মো. মাসুম বিল্লাহ।

এসআই জানান, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অপরদিকে এজেন্টরা এ ব্যাপারে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে বিকাশের জোনাল অফিস খুলনায় ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করে নি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগকারী এজেন্টদের মধ্যে রয়েছেন আদর এন্টারপ্রাইজ, সোহেল এন্টারপ্রাইজ, বুলবুল টেলিকম, মোবাইল প্যালেস, আহানাজ ফটো, কেসিও ওয়াচ, জয়া এন্টারপ্রাইজ, খোকন বুক ডিপো, রমজান টেলিকম, রাজু টেলিকম, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, জননী স্টোর, একে ইলেকট্রনিকস, তোহা মোবাইল, আরজু এন্টারপ্রাইজ, সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ, সুমাইয়া টেলিকম, মামুন এন্টারপ্রাইজ, রেজা এন্টারপ্রাইজ, তানভির স্টোর ও স্বপন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও