হজম করতে না পেরে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরত

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

হজম করতে না পেরে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরত

মেজবাহ উদ্দিন পলাশ, কুষ্টিয়া ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

হজম করতে না পেরে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরত

কুষ্টিয়া ডিসি কার্যালয়ের অফিস-সহকারী আনোয়ার হোসেন

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাবার নামে। তার মৃত্যুর পর ছেলে সেটি নিজের নামে করতে চাইলেন। এজন্য জেলা প্রশাসকের অফিসে গিয়ে পড়লেন খপ্পরে।

নগদে ৯০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও লাইসেন্স হস্তান্তর করতে পারেননি। উল্টো দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। অবশেষে ঘুষের সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অফিস-সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আনোয়ার হোসেন।

একই সঙ্গে তাকে খোকসাতে বদলির আদেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন।

আনোয়ার হোসেনের বাবার নাম আকমল মাস্টার। তিনি কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ডি বক্লে বসবাস করেন।

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান এলেন জানান, তার বাবা কুষ্টিয়া সুগার মিলের কর্মকর্তা সেতাফুর রহমান কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। তার নামে একটি বন্দুকের লাইসেন্স ছিল।

সেটি নিজের নামে করার জন্য সমস্ত কাজপত্র নিয়ে ডিসি অফিসে যান। সেখানে লাইসেন্স নয়ায়নের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেন এজন্য ২ লাখ টাকা দাবি করেন।

টাকা না দেয়ায় আতিকুর রহমান এলেনকে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকেন আনোয়ার। এক পর্যায়ে তিনি ৯০ হাজার টাকা দেন। এরপর লাইসেন্স নবায়নের কাজ কিছুটা এগোয়। কিন্তু, আরও ১ লাখ টাকার জন্য আনোয়ার সেটি আটকে রেখে চাপ দিতে থাকেন।

আতিকুর রহমানের হয়রানির বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কানে এলে তিনি গত ১০ জুলাই আনোয়ার হোসেনকে কুষ্টিয়া সদর থেকে খোকসায় বদলির আদেশ দেন। একই সঙ্গে ঘুষের ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেন।

নির্দেশ পেয়ে পরের দিন বৃহস্পতিবার আনোয়ার কুষ্টিয়া ইসলামী ব্যাংকে তার ভাইয়ের একাউন্টের মাধ্যমে আতিকুর রহমানকে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেন।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘কাজ করে দেয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা আতিকুর রহমানকে ফেরত দিয়েছি।’

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান এলেন বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু, এখনো আমার কাজ হয়নি। আশা করছি, ডিসি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।’

এমপি/আইএম

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও