সরকারি হাসপাতালের প্রথম সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার যেভাবে চলছে

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সরকারি হাসপাতালের প্রথম সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার যেভাবে চলছে

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চালু করা হয়েছে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার। এটিকে জেলা সরকারি হাসপাতালের প্রথম ক্যাশ কাউন্টার হিসেবে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টারের মাধ্যমে রোগীর যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ফি জমা নেওয়া হয়। এতে দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানি লাঘব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও নতুন চালু হওয়ায় কিছু দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। নানা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালে রোগীর সেবা নিশ্চিতে তৎপর কর্তৃপক্ষ।

রোগীদের হয়রানি বন্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ার অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য হাসপাতালে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে বহি:বিভাগের রোগীরা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ওই ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমার সুযোগ পাচ্ছেন। টাকা জমার পর রোগীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন।

তবে যদি কেউ আগে টাকা জমা দেন, কোনো কারণে সেদিন পরীক্ষা না করতে পারেন। পরের দিন প্রথম সিরিয়ালে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ পান।

নতুন চালু হওয়া পদ্ধতিতে এখনও সবাই অভ্যস্থ হতে পারেনি। এজন্য অনেকেই বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিময় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। কিন্তু আমরা সেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি। জনবল সংকটে কারণে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। সেটি খুব শিগগির কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

সত্তর উর্ধ্ব রোগী আইনাল হক বলেন, ডাক্তার এক্স-রে  করতে দিয়েছেন। এক্স-রে রুমে গেলে এখানে (সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার) পাঠিয়ে দিয়েছে। এখান থেকে বলছে বেলা ১২টা পার হয়েছে। আজ আর টাকা জমা নেওয়া হবে না। আবার কাল আসতে হবে।

আরও কয়েকজন রোগী জানান, নতুন চালু হওয়া পদ্ধতিতে এখনও সবাই অভ্যস্থ হতে পারেনি। আবার অনেকেই জানে না। এজন্য বিপাকে পড়তে হয়েছে।

মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, রেডিয়েশন টেকনোলজিস্ট

হাসপাতালের রেডিয়েশন টেকনোলজিস্ট মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। রোগীদেরও ভোগান্তি কমেছে। তবে কিছু রোগী বেলা ১২টার পরেও আসেন। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়।

দীপক কুমার, ইসিজি টেকনিশিয়ান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

হাসপাতালের ইসিজি টেকনিশিয়ান দীপক কুমার বলেন, সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার চালু হওয়ায় আমরা কোনা টাকা গ্রহণ করছি না। এতে আমাদের আর্থিক কোনো হিসাব দিতে হবে না। এখন রোগীদের ছয় ধাপ পার হয়ে, তবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। যেমন প্রথমে টিকিট কাটতে হবে। এরপর ডাক্তার দেখানো, ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিতে হবে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। তারপর রিপোর্ট পেতে হবে।

 ডা. আবুল কালাম আজাদ, তত্ত্ববাধায়ক (চলতি) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক (চলতি) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্নীতিমুক্ত হাসপাতাল গড়ার প্রত্যয়ে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হয়েছে। এতে রোগীর ভোগান্তি লাঘব হবে। প্রশাসনিক জটিলতারও অবসান হবে।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিময় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। কিন্তু আমরা সেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেল করে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে জনবল সংকটে কারণের অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। সেটি খুব শিগগির কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

ভিডিও: ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও