তরুণ বিজ্ঞানী মুনের নতুন আবিষ্কার হ্যাকার রোবট ‘গ্যারি’

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

তরুণ বিজ্ঞানী মুনের নতুন আবিষ্কার হ্যাকার রোবট ‘গ্যারি’

যশোর ব্যুরো ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৯

তরুণ বিজ্ঞানী মুনের নতুন আবিষ্কার হ্যাকার রোবট ‘গ্যারি’

বহুমাত্রিক প্রযুক্তির উদ্ভাবক দেশসেরা তরুণ বিজ্ঞানী যশোরের কৃতি সন্তান সেখ নাইম হোসেন মুন এবার হ্যাকার রোবট ‘গ্যারি’ উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করেছে। তার  নতুন এ উদ্ভাবন অপরাধীকে সহজে চিহ্নিত করার পাশাপাশি মানুষকে সঠিক পথ চেনাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

প্রযুক্তির এই নতুন উদ্ভাবনের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যে যশোরে ৪০তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সেখ নাইম হোসেন মুন। অদম্য মেধাবী এই তরুণ বিজ্ঞানী ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির উদ্ভাবনে মনোযোগী হয়ে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চায় সে বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তার প্রথম আবিষ্কার অত্যাধুনিক ‘ড্রন’ সবার নজর কাড়ে। যে কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে সে ‘ড্রনবয়’ হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করে। এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এই বিজ্ঞানী এ পর্যন্ত ২২টি রোবট আবিষ্কার করেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও কৃষি নিয়ে নানা প্রজেক্ট তৈরি করে সরকারের দৃষ্টি কাড়ে। এজন্য সে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কারেও ভূষিত হয়। সম্প্রতি প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিতে ভারত সফরও করে নাঈম হাসান মুন।

সর্বশেষ যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৪০তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলায় হ্যাকার রোবট ‘গ্যারি’ উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করলো তরুণ বিজ্ঞানী মুন। তার এ নতুন উদ্ভাবন অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হওয়ার সুযোগ করে দেয়। জিলা স্কুলে তিনদিনের এ বিজ্ঞান মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নিজেদের তৈরি নানা প্রযুক্তি উপস্থাপন করে। তিনটি ক্যাটাগরি সিনিয়র ও জুনিয়র ও বিশেষ গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা হয়। এর মধ্যে সিনিয়র গ্রুপে হ্যাকার রোবট গ্যারি আবিষ্কার করে প্রথম স্থান অধিকার করে মুন।

একই গ্রুপে যশোর মুসলিম এইড ইনস্টিউট অব টেকনোলজি (এমএআইটি) শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ ‘ফুড স্টোরেজ বাই সোলার রেফ্রিজারোন’ আবিষ্কার করে দ্বিতীয় স্থান ও দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল খালিদ সোয়াদ ‘মডেল হোম’ উদ্ভাবন করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া জুনিয়র ও বিশেষ গ্রুপের আরও বিজয়ী ৬ জন প্রতিযোগীর প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ওপর পুরস্কার দেয়া হয়।

মঙ্গলবার যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল বিজয়ী মুনসহ অন্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। শুধু রোবট তৈরি করেই প্রথম হয়নি মুন, সে একই সাথে উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায়ও জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পুরস্কার অর্জন করে। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক একে এম গোলাম আযম, জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক ও নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক প্রমুখ।

এদিকে যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল গোলাম মোস্তফা তরুণ বিজ্ঞানী নাঈম হাসান মুনসহ তার প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি সবার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও