একটি গাভী থেকেই আজকের রওশন আরা (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

একটি গাভী থেকেই আজকের রওশন আরা (ভিডিও)

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ৪:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

ঘড়ির কাটা ঠিক সকাল ৯টা। যশোর শহরের বেজপাড়া কবরস্থানে পৌঁছলাম। মোড়ের গলিতে লেখা— রাবেয়া ডেইরি ফার্ম ওইদিকে।

চিনতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না। একটু এগিয়েই দেখা মিললো ফার্মের মালিক রওশন আরা খাতুনের। উঠানে ভীষণ ব্যস্ত। পরিচয় পেয়ে স্বামীর হাতে দুধ বিক্রির দায়িত্ব দিয়ে সময় দিলেন।

রওশন আরা নিজেই প্রতিবেদককে খামার ঘুরিয়ে দেখালেন। শোনালেন জীবনযুদ্ধে সফলতার গল্প—

শুরু একটি গাভী থেকে

২০০৭ সালের কথা। সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে যান রওশন আরা। বড় ছেলে তখন শিশু। আত্মীয় বাড়ি অনেক গরু দেখে বায়না, একটি গরু তারও চায়।

এক পর্যায়ে সেখান থেকে ২৮ হাজার টাকায় একটি গর্ভবতী গরু কেনেন রওশন আরা। শহরের বেজপাড়া করবস্থান মোড়ের বাড়ির আঙিনায় শুরু হয় গরু পালন। এক মাস পরে বাছুর হয়।

কিছুদিন যেতেই গাভী ৭-৮ লিটার দুধ দিতে থাকে। এতে রওশন আরা বাণিজ্যিকভাবে গাভী পালনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়তে থাকে গরু। একটি, দুটি থেকে খামার, নাম দেন রাবেয়া ডেইরি ফার্ম।

বর্তমানে তার খামারে ১৮টি গাভী। তাদের বাছুর ১৯টি মিলে ৩৭টি গরু। ১৩টি গাভী দুধ দিচ্ছে। খামারের গরুগুলোর বর্তমান মূল্য ৩০ লাখ টাকার কাছাকাছি। রওশন আরা কৃতজ্ঞ। ওই একটি গাভীই তার জীবনের চাকা ভিন্ন পথে নিয়ে দিয়েছে বলে। পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা।

যেমন চলছে রওশন আরার ফার্ম

২০১০ সাল থেকেই প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ টাকার গরু বিক্রি করেন রওশন আরা। এঁড়ে বাছুর ও বয়স্ক গাভী বিক্রি করেই এই টাকা হয়। তবে তার নিয়মিত আয়ের উৎস দুধ। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ লিটার দুধ বিক্রি করেন। প্রতি বছর দুধ বিক্রি করেই আয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

এই খামার থেকে বাৎসরিক আয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। যেমন আয়, খরচও তেমনই। গরুর খাবার, ওষুধ, খামারের বিদ্যুৎ বিল, পরিচর্যা ও চার কর্মচারীর বেতন মিলে বছরে প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো খরচ। খরচ বাদে প্রতি বছর তার নিট লাভ ৭ লাখ টাকার বেশি।

স্বামী এক সময় কোম্পানির চাকরি করতেন। স্ত্রীর খামারের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। মূলত খামারের আয়ে চলে পাঁচ সদস্যের পরিবার। দুই ছেলে লেখাপড়া করছে।

বড় ছেলে মঈনুল হাসান মাগুরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করেছে। ছোট ছেলে আবির হাসান যশোর জিলা স্কুল থেকে এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিবারের সব সদস্যের সহায়তায় রাবেয়া ডেইরি ফার্ম এগিয়ে নিচ্ছেন, বললেন রওশন আরা।

১৯৯২ সালে যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার আবদুস সবুরের সঙ্গে বিয়ে হয় রওশন আরার। বিয়ের পরের বছর এসএসসি পাস করেন। এরপর সংসার সামলাতে চুকে যায় লেখাপড়া। পুরোদস্তুর গৃহিনী হয়ে পড়েন।

রওশন আরা বলেন, এরই মধ্যে ২০০৭ সালে শখের বসে একটি গাভী পালন শুরু করি। শহরে নিজস্ব বাড়ি থাকায় সুবিধা ছিল। পরে বাড়ির আঙিনায় শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে গাভী পালন।

তিনি বলেন, গাভী পালন লাভজনক হওয়ায় সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। শহরের বড় ফার্মগুলোর মধ্যে তারটি অন্যতম। নিজের স্বচ্ছলতার সঙ্গে চারজনের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। এটিই সবচেয়ে ভাল লাগে।

রওশন আরা বলেন, ‘সরকারি তেমন সহযোগিতা পাই না। এ নিয়ে দুঃখও নেই। ক্ষুরারোগের প্রার্দুভাব হলে আতঙ্কিত হই। এবারও এই রোগে ক্ষতি হয়েছে। কষ্ট লাগে ভ্যাকসিনেও ক্ষুরারোগের প্রতিকার পাচ্ছি না।’

আইআর/আইএম

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও