ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলির চেষ্টা, মারধর

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলির চেষ্টা, মারধর

নড়াইল প্রতিনিধি ১০:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলির চেষ্টা, মারধর

নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচিতে পিস্তল দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করা হয়। এসময় বেশ কয়েকজন ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার ওপর বেঞ্চ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে অবশ্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জানা গেছে, গত শনিবার সকালে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক তার প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পড়ানোর সময় নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা এরিনাকে  চড় মারে। এতে ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে তার বাবা মঈনউল্লাহ দুলুকে জানান।  এ ঘটনার পর অভিভাক দুলু ওই শিক্ষকের কোচিংয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সামনে মারধর করেন। মঈন উল্লাহ দুলু পেশায় একজন ঠিকাদার।

শিক্ষক প্রদেশ মল্লিক জানান, শনিবার সকালে তার ভাড়ার বাসায় শিক্ষাথীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়ার সময় ঠিকাদার মো. মইনউল্লা দুলুর মেয়ে সানজিনা এরিনা খাতায় নাম না লিখে জমা দেয়, খাতায় নাম লেখোনি কেন, এ প্রশ্ন করলে সে খাতা আমার সামনে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং বাড়ি থেকে তার বাবাকে ডেকে নিয়ে আসে । তিনি এসে আমার সাথে শিক্ষাথীদের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।

এ ব্যাপারে মঈন উল্লাহ দুলু বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলার কোনো নিয়ম না থাকলেও ওই শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে অনেক ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে। আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে জানালে তখন রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে থানায় দেয়ার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়নি।’

নড়াইলের নারী নেত্রী আনজুমান আরা বলেন , ‘ঘটনাটি নড়াইল জেলা প্রশাসক অবহিত হওয়ার পর রবিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কক্ষে এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্য অপ্রীতিকর ঘটনা মীমাংসার বৈঠক চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা। এসময় নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ইয়ারুল ইসলাম ওই ছাত্রদের স্কুলে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্ররা অনুরোধ না মেনে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী অভিভাবক মঈন উল্লাহ দুলুকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানান।’

কয়েকজন ছাত্র জানান,  শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলুকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলায় ওই ঠিকাদারের পক্ষের অনেক লোকজন তাদের (ছাত্রদের) ওপর হামলা করে। অনেককে মারধর করে। তখন রেজাউল আলম নামে একজন ঠিকাদার পকেট থেকে পিস্তল বের করে আমাদের ছাত্রদের গুলি করার ভয় দেখায়। তখন ছাত্ররা ভয়ে স্কুলের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নড়াইল-যশোর সড়কে বেঞ্চ দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় উভয়পাশে ঘণ্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ছাত্রদের ওপর পিস্তল দিয়ে গুলির চেষ্টারত ঠিকাদার রেজাউল আলম মিডিয়ার সামনে কথা না বললেও ব্যবসায়িক পার্টনার ঠিকদার আব্দুল মুকিত লাভলু বলেন, কোনো ছাত্রের গায়ে হাত তোলা হয়নি। এমনকি পিস্তল উঁচু করে গুলি করার ভয় দেখানো হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ভুল বোঝাবুঝির অবসানের পর দেখতে পেলাম কিছু অছাত্র ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তখন তাদের আটক করার চেষ্টা করা হয়। তবে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঘটনাস্থল থেকে স্কুলের দিকে চলে যায়

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার পর ঠিকাদার রেজাউল আলমের পিস্তলটি থানায় জমা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও