যুবরাজ, সাহেব ও রবিতে স্বপ্ন দেখছেন শাহ আলম

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

যুবরাজ, সাহেব ও রবিতে স্বপ্ন দেখছেন শাহ আলম

শাহরিয়ার আলম সোহাগ, ঝিনাইদহ ৭:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

যুবরাজ, সাহেব ও রবিতে স্বপ্ন দেখছেন শাহ আলম

দূর্গাপুরের যুবরাজ, সাহেব ও রবিকে কে দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। কেউ বাইসাইকেল চালিয়ে, কেউবা ভ্যানে আবার কেউ পায়ে হেটে আসছে যুবরাজদের বাড়িতে। তাদের সঙ্গে সেলফি উঠানোরও হিড়িক পড়েছে। সেই ছবি আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এ কারণে যুবরাজদের দেখতে ভিড় বাড়ছেই।

দূর্গাপুরের এই যুবরাজ কোনো রাজপুত্র নন, শাহ আলম মিয়ার একটি ফ্রিজিয়ান ষাঁড়। শখ করে যার নাম রাখা হয়েছে যুবরাজ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটা একটা হাতি!

ইতোমধ্যে পাইকাররা যুবরাজের দাম হেঁকেছেন ১৮ লাখ টাকা।

তবে শাহ আলম জানান, তিনি ২৫ লাখ দাম চাচ্ছেন, কিছু কম হলেও বিক্রি করবেন।

এছাড়া শাহ আলমের গরুর খামারে আছে সাহেব ও রবি নামের আরো দুইটি গরু। সাহেবের ওজন ১৬ মণ। সাহেবকে তিনি ৭/৮ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। এছাড়া রবির ওজন ১৮ মণ। রবিকে তিনি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম মিয়ার পৈত্রিক বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায়। প্রায় ৭ বছর পূর্বে এক বন্ধুর হাত ধরে এই গ্রামে চলে আসেন। বর্তমানে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। স্কুল ও কলেজ জীবন শিবচরে কেটেছে তার। পরে অর্থ উপার্জন করতে বিদেশে যান। ৫ বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। এরপর ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার প্রয়োজনে ৩৫টি দেশ ঘুরেছেন তিনি।

পরে ঝিনাইদহে এসে গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম। প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বাড়ি এবং বাড়ির সঙ্গে এই ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন। ৩ বছর হলো এই খামারে গরু লালন-পালন করেন। বর্তমানে তিনি এই খামারেই সময় দেন। এগুলো লালন-পালন করে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালান।

শাহ আলম জানান, বর্তমানে তার খামারে ৭টি গরু আছে। সবগুলো গরুর আলাদা আলাদা নাম আছে। তিনি সবাইকে নাম ধরেই ডাকেন।

আসন্ন ঈদুল আজহায় তিনি যে তিনটি গরু বিক্রি করবেন সেগুলোর নাম যুবরাজ, রবি ও সাহেব। বাকি চারটা আগামী বছর বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।

শাহ আলম বলেন, গরুগুলো তার খুব আদরের। তাদের সবকিছু নিজ হাতেই করেন। খাবার দেওয়া, ময়লা পরিষ্কার, গোসল দেওয়া সবই। তাকে সহযোগিতা করার জন্য তিনজন কর্মচারি আছে। তাদের চিকিৎসা, তাপমাত্রা ঠিক রাখাসহ সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হয়।

শাহ আলম জানান, তিন বছর তিনি এই খামার করেছেন। যুবরাজকে তিনি খামার শুরুর সময় নিয়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ৬ মাস। এখন তার বয়স ৩ বছর ৬ মাস।

তিনি বলেন, যুবরাজকে খরিদ করতে ইতোমধ্যে পাইকাররা আসছেন। তারা ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্য দিতে চান। তিনি আরেকটু অপেক্ষা করছেন। প্রয়োজনে হাটে উঠাবেন এবং ২৫ লাখ টাকা দাম চাইবেন। এ ক্ষেত্রে কিছু কম হলেও বিক্রি করে দেবেন।

শাহ আলম বলেন, যুবরাজের পেছনে এখন পর্যন্ত তার ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন তার এই গরু দেখতে। এতে তার অনেক ঝামেলাও হচ্ছে, কিন্তু তারপরও খুশি। এতো মানুষ তার বাড়িতে এটা দেখে ভালো লাগছে।  

ওই গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা জানান, শাহ আলম মিয়া গরুর সঙ্গে কথা বলেন। সে নাম ধরে ডাক দিলেই গরু বুঝতে পারে। মালিক যে নির্দেশ দেন সেটাই সে পালন করে।

তিনি বলেন, এই যুবরাজ তাদের গ্রামটি অনেক এলাকার মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন যুবরাজকে দেখতে।

ঝিনাইদহ শহর থেকে এসেছিলেন সাগর হোসেন। তিনি জানান, তাদের এলাকার অনেকে দেখে গিয়ে গল্প করছিলেন। এই গল্প শুনে তিনিও এসেছেন।

তিনি বলেন, গরুটি দেখে গরু মনে হয়নি, মনে হয়েছে এটি একটি হাতি। 

এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, গরুটির ওজন আনুমানিক ৩৫ মণ হবে বলে ধারণা করছেন। ঈদ আসতে এখনও কিছুদিন বাকি আছে। এরই মধ্যে আরো কিছু ওজন বাড়বে বলে মনে করছেন।

এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও