‘বি নেগেটিভ’ রোগীর শরীরে দেয়া হলো ‘ও পজেটিভ’ রক্ত!

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

‘বি নেগেটিভ’ রোগীর শরীরে দেয়া হলো ‘ও পজেটিভ’ রক্ত!

মো. জামাল হোসেন, খুলনা ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৯

‘বি নেগেটিভ’ রোগীর শরীরে দেয়া হলো ‘ও পজেটিভ’ রক্ত!

খুলনায় পায়ে ব্যাথা নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া ফাতেমা বেগম নামে পঞ্চাশোর্ধ এক নারীর শরীরে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের পরিবর্তে ‘ও পজেটিভ’ রক্ত দেয়া হয়েছে। এর পর থেকেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

ওই ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকের মালিক ও কথিত ডাক্তার মো. কামরুজ্জামানকে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর শিপইয়ার্ড রোডের আরাফাত হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

রোগী ফাতেমা বেগম নগরীর লবণচরা পুঁটিমারি এলাকার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর তাকে ওই ক্লিনিক থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের শর্তে ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রোগীর পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পায়ে ব্যাথাজনিত সমস্যার কারণে ফাতেমা বেগম ছেলে শেখ সোহাগ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রোববার আরাফাত হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার শরীরে দু’ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ক্লিনিকেই রক্তের ব্যবস্থা আছে বলে জানানো হয়। সে মোতাবেক ক্রসম্যাচিং করে রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’ বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়।

ওই রিপোর্ট অনুযায়ী রোববার দুপুরে এক ব্যাগ  ‘ও পজেটিভ’ রক্ত পুশ করা হয়। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই আরো এক ব্যাগ রক্ত পুশ করতে বলা হয়। কিন্তু ক্লিনিকে লোক না থাকায় রাতে রোগীর ছেলে সোহাগ ডোনারকে  (রক্তদাতা) নিয়ে খুলনা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে রক্তদাতা ও রোগীর রক্তের গ্রুপে মিল না হলে আবারও রোগীর রক্ত নিতে বলা হয়। রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে জানানো হয় ফাতেমা বেগমের রক্তের গ্রুপ ‘বি নেগেটিভ’।

বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বিষয়টি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে রাতেই রোগীর স্বজনরা বিষয়টি আরো নিশ্চিত হতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানেও একই রিপোর্ট দেওয়া হয়। সোমবার আবারো অধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফাতেমা বেগমের ব্লাড গ্রুপ ‘বি নেগেটিভ’ বলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে, রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোন ধরণের সন্তোষজনক সমাধান দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যে কারণে সোমবার দুপুরে ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা কামরুজ্জামানকে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

রোগী ফাতেমা বেগমের ছেলে শেখ সোহাগ হোসেন বলেন, তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের শর্তে ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপাতত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রক্তের গ্রুপ ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কোন সমস্যা নেই। রোগী তো মারা যায়নি।’

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোন রোগীর শরীরে ভুল রক্ত দেওয়া হলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে ওই ক্লিনিকের বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলতে পারবেন। এটি আমার এলাকার মধ্যে পড়ে না।

ওই ক্লিনিকটির অনুমোদন আছে-কিনা সে বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি সিভিল সার্জন রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, আরাফাত হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে দীর্ঘ দিন ধরেই অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। কথিত আছে ক্লিনিক মালিক মো. কামরুজ্জামান নিজেই চিকিৎসা করে থাকেন। গ্রামের রোগীরাই তাদের প্রধান টার্গেট। এর আগে ভ্রাম্যমান আদালত ওই ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবারো সবকিছু ম্যানেজ করে সে অপচিকিৎসা শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জেএইচ/পিএসএস

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও